রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে গাজর, এছাড়াও….

লাইফস্টাইল ডেস্কলাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ৮:০৮ অপরাহ্ণ, ১৯/১২/২০১৯

রক্তের কোলেস্টেরল কমানো, দৃষ্টি শক্তি বাড়ানোর মহা ঔষধসহ নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর গাজর। এতে উচ্চমানের বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এ, মিনারেলস ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। আসুন জেনে নেই প্রতিদিন গাজর খেলে আরো যেসব উপকার হয়।

১. দৃষ্টি শক্তির ঔষধ

গাজরের আকর্ষণীয় সব উপকারী দিকগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল দৃষ্টি শক্তিতে সহায়তা দেওয়া। লাল-কমলা রঙের ফল-মূল অথবা সবজি যেমন গাজর, মিষ্টি কুমড়া এবং তরমুজে বেটা-ক্যারোটিন নামের এক ধরনের উপাদান থাকে। এই উপাদানটি শরীরে ভিটামিন ‘এ’-তে পরিণত হয়। গাজরের বিটা ক্যারোটিন নিজে নিজেই ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়। যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে ভূমিকা রাখে। বিটা-ক্যারোটিন আমাদের দেহের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে রেটিনল বা ভিটামিন-এ’তে রূপান্তরিত হয়, আর ভিটামিন-এ আমাদের দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. ক্যান্সার প্রতিরোধে গাজর

সমীক্ষায় দেখে যে গাজর ব্রেস্ট ক্যান্সার, কোলন ক্যান্সার ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো ক্যান্সার প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে। গাজরে বিদ্যমান ফ্যালক্যারিনল ও ফ্যালক্যারিডিওল ফুসফুস ও অন্ত্রের ক্যান্সারসহ অন্যান্য ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। প্রতিদিন অন্তত একটি করে গাজর খাওয়ার হয়ত আপনাকে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ থেকে দূরে রাখবে।

৩. কোলেস্টরল কমায়

Nagad

গাজরে প্রচুর পরিমাণে আঁশ বা ফাইবার রয়েছে । আর এই ফাইবারে থাকে পেপটিন নামক উপাদান যা রক্তের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন এক কাপ করে গাজর অন্তত তিন সপ্তাহ খেলে সুফল পাওয়া যায়।

৪. সুন্দর ও সুস্থ্য সবল দাঁত

সুন্দর ও সুস্থ সবল দাঁত কার না পছন্দ। তাহলে গাজর খাওয়া শুরু করে দিন। গাজর আপনার দাঁত ও মুখ গহ্বর পরিষ্কার রাখে। গাজর মুখের প্ল্যাক ও খাবারের উপাদান মুখ থেকে দূর করে টুথ পেস্ট ও টুথ ব্রাশের মতই। এছাড়াও গাজরের মিনারেলগুলো অনেকাংশেই দাঁত মজবুত থাকতে সাহায্য করে। এছাড়াও চিবিয়ে গাজর খেলে মুখে বেশি পরিমাণে থুতু তৈরি হয় যা মুখ পরিষ্কার রাখে। গাজর অ্যালক্যালাইন হওয়ায় মুখের ভেতরের অ্যাসিড লেভেল ঠিক থাকে যা মুখের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া গ্রোথ হতে দেয় না।

৫. হৃদরোগের উপকারী এজেন্ট

হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখে এটি খুব ভাল কাজ করে। এর ক্যারোটিনয়েডগুলো হৃৎপিণ্ডের নানা অসুখের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। যেসব খাবারে যেমন গাজরে উচ্চমাত্রাই এই উপাদান পাওয়া যায় সেসব খেলে হৃৎপিণ্ডের রোগের ঝুঁকি অনেক কমে আসে। তাই আপনি যদি গাজর শুধু শুধু চিবিয়েও খেতে পারেন তাতেই আপনার হৃদরোগের বিরুদ্ধে বেশ ভালো একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে গেল!

৬. মস্তিষ্ক ক্ষয় রোধ

গাজর মেমোরি লস বা স্মৃতিশক্তি হ্রাসের প্রবণতার গতিকে কমিয়ে দেয়। গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন সেন্ট্রাল নার্ভস সিস্টেমে বিটা ক্যারোটিন এজিং প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেয়। হারভার্ড স্ট্যাডিতে উল্লেখ করা হয়েছে যদি কেউ দৈনিক ৫০ গ্রাম বিটা-ক্যারোটিন আহার করে তবে মস্তিষ্ক ক্ষয় হ্রাস পায়।

৭. ওজন কমাতে সহায়ক

জন কমাতে আমরা কতশত ডায়েট চাট ও খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করে চলি। কিন্তু ওজন কমানোর জন্য আপনি যদি গাজর ডায়েট হিসেবে বেছে নেন তাহলে আপনার ওজন কমানোর ঝামেলা অনেকখানিই কমে যাবে। গাজর কম ক্যালরি যুক্ত ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ একটি সবজি যা কাঁচা খাওয়া যায়। কেটে টুকরো করে এমনি বা সালাদ তৈরি করে নাস্তা হিসেবে গাজর খাওয়া যায়। এটি খাবার পরে বেশ কিছুক্ষণ পেট ভরা থাকে বলে ক্যালরিযুক্ত অন্য কোন খাবার খেতে হয় না। যে কারনে এটি ওজন কমাতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। হালকা খিদা ভাব হলে তাই আজেবাজে জিনিস না খেয়ে একটা গাজর খান।

৮. রোধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি

প্রতিদিন এক গ্লাস গাজরের জুস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। শরীরে ক্ষতিকর জীবাণু, ভাইরাস এবং বিভিন্ন ধরনের প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে। গাজরের জুসে ভিটামিন ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খনিজ, পটাশিয়াম, ফসফরাস ইত্যাদি থাকে যা হাড় গঠনে সহায়তা করে।

সারাদিন/১৯ ডিসেম্বর/এসআরটি