বিদেশে পড়েও এখন এগ্রো উদ্যোক্তা, এলাকার কর্মসংস্থানে রাখছেন ভূমিকা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৩৫ অপরাহ্ণ, ২০/০৮/২০২০

ছবিতে মো: পারভেজ চৌধুরী

নাম মো: পারভেজ চৌধুরী। দীর্ঘদিন পড়াশোনা করেছেন দেশের বাহিরে। দেশে ফিরে চাকরির পেছনে না ঘুরে, নিজেই হয়েছে উদ্যোক্তা। কুমিল্লার প্রত্যন্ত গ্রামে বসাবস করেও গড়ে তুলেছেন ‘মাটি এগ্রো ডেইরি ফার্ম’। যেখানে এখন অনেক গরু রয়েছে। কর্মসংস্থান হয়েছে বেশ কিছু পরিবারের। অনলাইনেও বিক্রি করছেন গরু। এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বেশ নামডাক। তাকে দেখে অনেকেই হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা। সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন ‘সফলতার দ্বারপ্রান্তে’।

সম্প্রতি কথা হয় এই প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার পারভেজ চৌধুরীর সাথে। তিনি অকপটে বলেছেন, উদ্যোক্তা হয়ে গল্প, কিভাবে এই ব্যবসা করা যায়, কোন কোন পদ্ধতি অনুসরণ করতে হয়। সেই কথাগুলোই সারাদিন ডট নিউজের পাঠাকদের জন্য তুলে ধরেছেন এই প্রতিবেদক।

সারাদিন: আপনি দীর্ঘ সময় দেশেরে বাইরে পড়াশোনা করেছেন? দেশে এসে চাকরি বা অন্য ব্যবসা না করে কেন গরুর গামার করলেন?

পারভেজ চৌধুরী: আমি দেশে এসে চাকরির পেছনে না ঘুরে, দেখলাম সরকার কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক সহযোগিতা করছে। প্রথম দিকে পর্যটন হোটেল ব্যবসা ছিলো। পরে দেখলাম এটার চেয়ে কৃষিতে আমার ঝোঁক বেশি। তাই আমি এটা বেছে নিলাম এগ্রোকে । কৃষি উন্নয়নে সরকারের অনেক সহযোগিতার মধ্যে একটির কথা বলি তা হলো- আমরা যে ইউরিয়া সার ব্যবহার করি এটা ষোল টাকা কেজি। কিন্তু সরকারের এই সার প্রস্তুত করতে খরচ পড়ে ৯০ টাকা। তাহলে এই সারে সরকার কেজিতে আমাদের ৭০ টাকার বেশি ভর্তুকি দিচ্ছে। তাহলে ৭০ থেকে ৮০ টাকা ভর্তুকি দেয়ার পরও কেন কৃষি খাতে উন্নয়ন হবে না। এবং নতুন নতুন কৃষি সম্ভাবনাময় খাত আসছে। অনেক ভাবনা থেকে নেমে পড়া, অবশেষে আমি সি ফুড খাবার নিয়ে, মাংস খাবার বা ক্যাটারিং সহ বিভিন্ন বিষয়ে আমি ট্রেনিং নিয়েছি।

খামার উন্নয়নে আমি সব ধরনের সহযোগিতা সরকারের পক্ষ থেকে পাচ্ছি। তাই আমার কাছে এটা সবচেয়ে বেশি সুবিধাজনক বলে মনে হয়েছে। তাছাড়া আমার বাড়ি কুমিল্লা জেলার শেষ সীমান্তে। এখানে উন্নয়নের দিকে বলেন রাস্তা-ঘাটের কথা বলেন সবই অনুন্নত। বলতে পারেন গ্রামটি এক প্রকার অবহেলিত। আমার গ্রামে বিদ্যুৎ আসছে মাত্র এক বছর আগে। এখানকার মানুষ এখনো সেই ৫০ বছর আগের চিন্তা ধারা নিয়ে বেঁচে আছে। যেমন তাদের ধারণা, নারীদের দিয়ে গরুর পরিচর্যা করলে গরু রোগা হয়, বেশি দুধ দেয়না। আমার ইচ্ছা ছিল তাদের এই ধরনের চিন্তা ধারা পালটিয়ে আধুনিকতার সাথে মিলিয়ে আমার খামারে অনেকের কর্ম সংস্থান করব। এবং তারা আমাকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে খামার করে লাভবান হবে।

সারাদিন: আপনার গরুর খামার কতদিন হলো করেছেন, আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

পারভেজ চৌধুরী: আমার খামারের বয়স প্রায় তিন বছরের মতো। এখানে চল্লিশটা গরু প্রস্তুত করেছিলাম। তবে বিশটা গরু বিক্রি হয়েছে। বাকী বিশটা গরু আমার খামারে রয়েছে। আমার দুধ দেয়ার গরু কম আমি ক্যাটারিংয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি কারণ এই প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে দুধ বাজারজাতকরণ দুরূহ। খামারে ৩০০ থেকে ৪০০ গরু পালন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেন কমপক্ষে ৫০টি পরিবারের কর্ম সংস্থান করতে পারি।

সারাদিন: আপনার খামার তৈরি করতে কি ধরণের প্রতিবন্ধকতা হয়েছে?

পারভেজ চৌধুরী: খামারের উন্নয়ন বিষয়ে প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের আওতাধীন উপজেলার তিনজন কর্মকর্তার কাছ থেকেই আমি আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছি। তাদের পরামর্শে আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমার আশা আমার এলাকায় কয়েক প্রকারের ঘাস আছে এগুলো যদি বাড়ানো যায় তাহলে আমাদের খরচের পরিমাণটা কমে যাবে। প্রতিবন্ধকতার মধ্যে এখানে অনেকেই মনে করছেন ঘাস-লাগালেই নাকি জমি নষ্ট হয়ে যাবে। এই ধারণাটা এখানে বিদ্যমান। তাদেরকে বোঝানো কঠিন। এছাড়াও এখানে অনেক অনাবাধি জমি রয়েছে, সরকারের অনেক জমি রয়েছে, যেখানে যদি ঘাস চাষ করা যেত, তাহলে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হতো, আমারও অনেক সাশ্রয় হতো।

সারাদিন: আপনার খামারের মাধ্যমে এলাকায় অন্যদের উৎসাহিত করছেন কিনা?

পারভেজ চৌধুরী:হ্যাঁ। এলাকায় অনেককে আমি উৎসাহিত করতে চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে আমার কাছ থেকে পরামর্শ ও অন্যান্য সহযোগিতা নিয়ে এক যুবক খামার গড়ে তুলেছে। এছাড়া হাঁসের খামার করেছে একজন। আমি চাচ্ছি অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে।

সারাদিন: কেউ যদি আপনার মতো উদ্যোক্তা হতে চায় , সে ক্ষেত্রে আপনার পরামর্শ কি?

পারভেজ চৌধুরী: আমার পরামর্শ হচ্ছে কেউ যদি উদ্যোক্তা হতে চায় তাহলে তার প্রথমে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকতে হবে। কাজ করার এবং শিখার মন মানসিকতা থাকতে হবে। তাহলেই সে সফল উদ্যোক্তা হতে পারবে।

সারাদিন: নতুন খামার করতে গেলে কোন বিষয়গুলো গুরুত্ব দিতে হবে?

পারভেজ চৌধুরী: খামার করতে গেলে প্রথমেই খামার সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখতে হকে। সেজন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে হবে। তাদের পরামর্শ নিতে হবে। এরপর ভালোমানের কয়েকটি খামার ঘুরে দেখতে হবে। খামারে লাভের চিন্তা বাদ দিয়ে কোন কোন দিকগুলো খামারের ক্ষতির কারণ হতে পারে সেগুলো চিহ্নিত করতে হবে। তবেই একটি সফল খামার করা সম্ভব।

সারাদিন/২০ আগস্ট/আরএসটি