হাওয়া ভবনের জন্য তারেককে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে: কাদের সিদ্দিকী

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:২১ অপরাহ্ণ, ১৯/১২/২০১৯

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জনগণের কাছে ক্ষমা না চাইলে তার দলের কোনো ভবিষ্যৎ নেই। হাওয়া ভবনের জন্য তারেক রহমান যতক্ষণ জনগণের কাছে ক্ষমা না চাইবে এবং জনগণ যতক্ষণ পর্যন্ত তাকে ক্ষমা না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত বিএনপির কোনো ভবিষ্যৎ নেই।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গঠিত হওয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট জোট ছেড়ে দেওয়া প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধুর একজন সহকর্মীর নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন নয়, বিএনপি। বিএনপির নেতৃত্বে বা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আমি এখন আর বেহেশতেও যেতে রাজি না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার সময় আওয়ামী লীগ নেতাদের ভূমিকা নিয়ে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) এক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, তিনি ওই সময় প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সে সময় যারা প্রতিবাদ করেছিলেন তাদের নাম প্রধানমন্ত্রী না নেওয়ায় আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি।

আলোচনা সভায় রাজাকারের তালিকা প্রকাশ নিয়ে সমালোচনা করেন বক্তারা। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার সংখ্যালঘু ও মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকারের তালিকায় নাম দিয়েছে। বাসদের বরিশালের সদস্য সচিব মনীষা চক্রবর্তীর বাবা মুক্তিযোদ্ধা তপন কুমার চক্রবর্তী ও তার ঠাকুরমা উষা রানী চক্রবর্তীর নাম রাজাকারের তালিকায় আসায় সমালোচনা করেন বাসদ সাধারণ সম্পাদক।

রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম আসাকে কলঙ্কিত ঘটনা উল্লেখ করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এত বছর পরে একটা তালিকা প্রকাশ করা হলো সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকারের তালিকায় স্থান পেলেন। যারা ক্ষমতায় থেকে এসব করে তাদের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তালিকা যাচাই না করায় তাদেরও সমালোচনা করেন তিনি।

ভারত থেকে অনুপ্রবেশের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন মান্না। এজন্য তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনাও করেন।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যখন মুক্তিযোদ্ধাদের রাজাকার বলে, তখন মনে হয় এ মন্ত্রণালয় ও সরকার নষ্ট হয়ে গেছে। যারা রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করে, তাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। এমনিতেই এই সরকার ক্ষমতায় থাকার অধিকার অর্জন করেনি। কারণ জনগণ তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি।

এসময় তিনি আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজপথে থাকার কথাও জানান।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে রাস্তায় নামতে হবে।

রাজাকার ও মুক্তিযোদ্ধাদের একই তালিকায় স্থান দেওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিচার চান গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হয়েছে।

নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জেএসডির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ।

সারাদিন/১৯ডিসেম্বর/টিআর