রাজধানী কাঁপছে শীতে

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১১:০১ পূর্বাহ্ণ, ১৯/১২/২০১৯

পৌষ মাসের ৫ তারিখ বৃহস্পতিবার। তবে এই মাসের প্রথম দিনে রোদ উঠলেও গত দুইদিন যাবৎ বয়ে যাচ্ছে উত্তরা বাতাস। আর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার সময়ও রোদ উঠেনি। আর পুরো রাজধানীতেই কনকনে হিমবাহ বাতাসে উঠছে হাড় কাঁপুনি শীতে। তবে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে ঢাকাবাসী দিনেও মোটা কাপড় ছাড়া বের হতে পারছেন না।

তবে সম্প্রতি আবহাওয়া অফিস বলেছে, ডিসেম্বরেই দুইটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাবে সারাদেশের কোথাও কোথাও।

কিন্তু হঠাৎ চলে আসা ঠাণ্ডা ‍অনুভূতি রাজধানীবাসীকে মানিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে উত্তরায় তুরাগ বাসে উঠা আয়েশা খাতুন নামের এক যাত্রী সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এভাবে যদি শীত পড়ে তবে সঙ্গে থাকা ছোট মেয়েকে নিয়ে কিভাবে স্কুলে যাবো।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাবলিক বাস বা কার ছাড়া অন্য কোনো পরিবহনের যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে বিপাকে। মোটর সাইকেল চালকরা পুরো শরীর মুড়িয়েও রক্ষা পাচ্ছেন না শীতের আবহ থেকে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে জানা গেছে, হঠাৎ করে ঠাণ্ডার এ আক্রমণে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। আর অনেকে অনেক অসুখ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তিও হয়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছেন নানা রোগে।

আবহাওয়াবিদ আব্দুর রহমান সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে যাওয়ার কারণে ঠাণ্ডার অনুভূতি বেড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য প্রায় অর্ধেক কমে এসেছে। তারপরও রয়েছে উত্তরা বাতাস।

তবে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, শনিবার (২১ ডিসেম্বর) পর্যন্ত রাজধানীর তাপমাত্রা কমবে। আর তা রাজধানীতে ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসবে। দিনের তাপমাত্রা এখন ২০ ডিগ্রি সেলিসিয়াসে আছে। এটা আরো নিচে নেমে এলে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য আরও কমে যাবে।

তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসছে বাতাস, যেটাকে আমরা উত্তরা বাতাস বলে থাকি। ঢাকায় বর্তমানে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার। এই বাতাস কনকনে হিমবাহ এনে হাড় কাঁপুনির সৃষ্টি করেছে। এই বাতাস না থাকলে দিনের তাপমাত্রা এতো কমতো না। আর এতো ঠাণ্ডাও অনুভূত হতো না। ৯-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এতো ঠাণ্ডা অনুভূত হয়না, যদি রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য বেশি থাকে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের মধ্যে রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য সবচেয়ে কম ছিল ঢাকায়। এখানে ওই সময়ে দিনে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাতের তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তেঁতুলিয়াতে সর্বনিন্ম তাপামাত্রা রেকর্ড করা হলেও ঢাকার চেয়ে বেশি ছিল রাত ও দিনের তাপমাত্রার পার্থক্য। তাই রাজধানীবাসীকেই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রাজধানীতে সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে। এমন অবস্থা দুই দিন থাকার পর সূর্যকিরণ আবার আগের মতো পাওয়া যাবে। স্থান ভেদে ২১ ও ২২ ডিসেম্বরের দিকে ঠাণ্ডা অনুভূতি কমে আসবে। এরপর আসতে পারে নিম্নচাপ। এক্ষেত্রে ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ মাঝারী (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা) ধরণের শৈত্যপ্রবাহের মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে দেশবাসীকে।

আবহাওয়া অফিসের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে হিমালয়ের পাদদেশিয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আর মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ অবস্থান করছে দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে। তাই বৃহস্পতিবারও (১৯ ডিসেম্বর) অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আর মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে মাঝারী ধরণের ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্যত্র কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারী ধরণের কুয়াশা পড়তে পারে।

সারাদিন/১৯ডিসেম্বর/টিআর