বর্ণাঢ্য আয়োজনে ইবিতে আরবী ভাষা দিবস পালিত

‘আরবী ভাষা ও কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার প্রাসঙ্গিকতা’ স্লোগানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আন্তর্জাতিক আরবী ভাষা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের আয়োজনে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।

দিবসটি উপলক্ষে অনুষদ ভবনের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে মিলিত হয়। পরে অনুষদ ভবনের ৪২৬ নং কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বিভাগের অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. ইউসুফ।

এছাড়াও অধ্যাপক ড. নেছার উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপক ড. ওয়াবাইদুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল মুত্তালিব, অধ্যাপক ড. এ কে এম সামসুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, অধ্যাপক ড. সাইফুল গনী নোমানসহ বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘আরবী ভাষা শুধু মাত্র সাহিত্যের ভাষা নয় এটি সমগ্র ভাষার প্রাণ। কারণ, এই ভাষা অন্য সকল ভাষার সাথে মিশে আছে। আরবী একটি বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা। মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থের ভাষাও আরবী এবং মৃত্যর পরে পরকালে তাদের ভাষা হবে আরবী।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে এর দাপ্তরিক ভাষা ছিল পাঁচটি। ইংরেজি, ফ্রান্স, চীন, রুশ ও স্প্যানিশ। আর বিশ্বের বিভিন্ন দিক থেকে বিশেষ ভূমিকা ও আরবী ভাষা ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশী হওয়া সত্ত্বেও আরব নেতাদের আরবি ভাষা ব্যবহারের কোনো সুযোগ ছিল না। ফলে ১৯৭৩ সালে জাতিসংঘের ২৮ তম অধিবেশনে ৩১৯০ নং সিদ্ধান্তে আরবী ভাষাকে জাতিসংঘ ও তার সংশ্লিষ্ট সংস্থার দাপ্তরিক ভাষার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

২০১২ সালের অক্টোবরে ইউনেস্কো নির্বাহী পরিষদের বৈঠকের ১৯০ তম অধিবেশনে ১৮ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক আরবী ভাষা দিবস ঘোষণা করা হয় এবং এর পর থেকে সেই দিনটি ‘আন্তর্জাতিক আরবী ভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। আরবি ভাষা বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে সৌদিসহ অন্য আরব দেশগুলো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে।

সারাদিন/১৮ ডিসেম্বর