মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৩০ অপরাহ্ণ, ১৮/১২/২০১৯

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধাদের নাম থাকায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের এক সভায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কিভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রাজাকারের তালিকায় আসলো তা রহস্যজনক। এসময় বিষয়টিকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, তালিকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এটা খুব খারাপ কাজ হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমাদের আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধে যারা গিয়েছিল তাদের সকলের নামের তালিকা করে তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে সে সময় অনেকগুলো মামলা দেয় পাকিস্তান সরকার। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে ওই তালিকা থেকে ধরে ধরে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এরশাদের সময়ে একটা তালিকা বের হলো, সেখানে এক নম্বর আসামি জিল্লুর রহমান (সাবেক রাষ্ট্রপতি) আর দ্বিতীয় হামিদ সাহেব (বর্তমান রাষ্ট্রপতি)। পরবর্তীতে দেখা গেল, পাকিস্তান আমলে যে তালিকা হয়েছে, সেটাই রয়ে গেছে। নথি তো থেকে যায়।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা প্রকাশ হয়েছে, সেখানে সবমিলিয়ে একটা গোলমাল করে ফেলেছে। সেখানে অনেকের নাম চলে এসেছে, যারা মুক্তিযোদ্ধা। সেখানে কিন্তু এক হাজারের মতো নাম দেওয়া ছিল। এটা একটা রহস্য। আসলে রাজাকারদের যেটা তালিকা, সেটা কিন্তু গেজেট করা ছিল। ওই গেজেট থেকেই তালিকা নিয়ে আমাদের বিচার কাজ চলেছে। কাজেই এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বলেছি, সমস্ত ফাইল খুলে দেখতে। খুব খারাপ একটা কাজ হয়ে গেছে। অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম সেখানে ঢুকে গেছে। ১৫ আগস্টের পর জিয়াউর রহমান, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সে তালিকা ব্যবহার করেছে। যারাই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছে তাদেরকে তারা সন্ত্রাসী হিসেবে বা বিভিন্ন অভিযোগে তালিকাভুক্ত করে মামলাও দিয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেলে সদ্যপ্রকাশিত রাজাকারদের তালিকা স্থগিত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে তালিকাটি তুলে নেয়া হয়েছে।

তালিকা স্থগিতের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। যাচাই বাছাই করে আগামী ২৬ মার্চ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

মহান বিজয় দিবসের আগের দিন ১৫ ডিসেম্বর ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে ঘোষিত তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার নাম রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

সারাদিন/১৮ ডিসেম্বর