সৌদি-আমিরাতের চাপে তুর্কি-মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য নতুন জোট ছাড়ল পাকিস্তান

নিউজ ডেস্কনিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, ১৮/১২/২০১৯

সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের চাপের কাছে নতি স্বীকার করে তুরস্ক ও মালয়েশিয়ার নেতৃত্বে ‘সম্ভাব্য নতুন জোট’ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান।

ডন জানায়, শেষ মুহূর্তে এ জোটের প্রথম সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে অপারগতা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে ভবিষ্যৎ এই জোটের তিন দিনব্যাপী সম্মেলন শুরু হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ এই সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নেন।

এই উদ্যোগের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-সানি এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বশেষ অধিবেশনের সাইডলাইনে এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে ইমরানের সঙ্গে কথা বলেছিলেন মাহাথির। এতে আগ্রহ দেখিয়েছিলেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নিজেও। গত ২৯ নভেম্বর সম্মেলনে যোগদানের আমন্ত্রণপত্র পান তিনি।

মূলত ফিলিস্তিনিদের ‘বর্জন করে’ ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি জোটের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক স্বার্থে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতকে সৌদি আরব ও আমিরাতের ‘নীরব সমর্থনের’ প্রেক্ষিতে বৈশ্বিক মুসলিম সম্প্রদায়ের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে ‘বিকল্প জোট’ গঠনের চিন্তা-ভাবনা করছিলেন মাহাথির ও এরদোয়ান।

Nagad

শুরু থেকেই এই উদ্যোগকে ভালো চোখে দেখেনি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সম্ভাব্য এই জোট থেকে সরে আসতে অর্থনৈতিক দুর্দশায় থাকা পাকিস্তানের ওপর চাপ বাড়ায় দেশ দুটি। সৌদি সফর করেও রাজপরিবারকে রাজি করাতে পারেননি ইমরান।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইমরানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর্থিক ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা দিয়ে আসছে সৌদি আরব। শেষ পর্যন্ত দেশের অর্থনৈতিক এই ভঙ্গুর দশার কথা বিবেচনা করে নতি স্বীকার করেন ইমরান।

সম্মেলনে যোগদানে অপারগতার কথা জানিয়ে মাহাথিরকে ফোন করেছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। একইভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকেও বিষয়টি অবহিত করেছেন ইমরান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সম্মেলনের আয়োজক দেশ মালয়েশিয়া। এতে সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সায় দেননি বলে জানানো হয়।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি বলেন, ‘মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের স্বার্থে’ এই সম্মেলনে কোনো পর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠাবে না পাকিস্তান।

তিনি নিশ্চিত করেন, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এই সম্মেলন নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা মনে করে, এতে ‘মুসলিম উম্মাহর’ মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি হবে এবং সৌদি প্রভাবাধীন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন-ওইআইসির সমপর্যায়ের নতুন জোট বা সংস্থার সৃষ্টি হতে পারে।

সারাদিন/১৮ডিসেম্বর/টিআর