রাজধানীসহ গরুর হাটে বেপারীদের হাহাকার, অনলাইনে দাম কম

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ, ৩০/০৭/২০২০

করোনার এই সময়ে সব কিছুই বদলে গেছে। অফিস-আদালত থেকে শুরু করে কেনাকাটা পযন্ত সব কিছুতেই পরিবর্তন। সেই প্রভাব পড়েছে রাজধানীসহ সারাদেশের পশুর হাটে। তবে রাজধানীর হাটে আসা বিভিন্ন গরুর ব্যাপরী ও ইজাদারদের ভাষ্য, আগের তুলনায় অনেক পার্থক্য এবারের হাটে। কেউ কেউ বলছে, ঝামেলা এড়াতে অনলাইন মুখি হচ্ছে ক্রেতারা। আবার কেউ বলছে বিক্রি কম হওয়ার কারণ এবারের এই স্মরণকালের ভয়াবহ করোনাভাইরাস।

রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন গরুর হাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গরুর দাম তুলনামূলক ভাবে কমও নয়, বেশি নয়,মাঝামাঝি অবস্থানে। তারপরে ক্রেতাদের খুব নজর কাড়তে পারছে না বেপারীরা।

গরুর ব্যাপরী আবুল বাশার-সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, ‘অনেক বেশি দামে কেনা গরুটি ২০ হাজার টাকা লসে বিক্রি করে দিলাম’। কেন? প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, এই ফিরিয়া নিতে গেলে, আরও খরচ বেশি। তাই বাধ্য হয়েই বিক্রি করে দিলাম।

এদিকে অনেকে মনে করছেন, করোনাভাইরাস মহামারী কালে অর্থনৈতিক সঙ্কট কিংবা স্বাস্থ্য ঝুঁকি এড়াতে এবার ঢাকায় কোরবানি অনেকেই দিচ্ছেন না, ফলে গরু বিক্রিতে নেমেছে ধস।

তবে অনলাইনে পুরো চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন। অনলাইনে গরু বিক্রি সাইট দেশী গরু ডট কম-এর সিইও টিটু বলেন, ‘আমরা এই পরিস্থিতিয়েও অনেক সাড়া পাচ্ছি। শেষের দিকে এসে আমাদের বিক্রি বেড়েছে। প্রথম দিকে ক্রেতারা শুরু বুকিং দিয়ে রাখত।’

সাধারণ পশুর হাট থেকে অনলাইনে তুলনামূলক কমদামে এবার বিক্রি হচ্ছে কুরবানির পশু বলে জানা যায়। ডিএনসিসির ডিজিটাল হাটসহ প্রায় অর্ধশতাধিক অনলাইন সাইট থেকে বিক্রি হচ্ছে কুরবানির গরু। অনলাইনে পশু বিক্রি আগে শুরু হলেও ক্রেতাদের অনলাইন হাট থেকে পশু কেনার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে গত ২ দিন ধরে বিশেষ করে রাজধানীর গরুহাটগুলো চালু হওয়ার পর। যখনি ক্রেতারা হাটে গিয়ে এবং অনলাইন ভিজিট করে গরুর দামের পার্থক্য দেখছে তখনি প্রচুর ক্রেতা সমাগম ও বিক্রি বেড়ে গেছে অনলাইনে বলে জানা যায়।

এ সম্পর্কে ই-ক্যাবের সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘আমরা আসলে ক্রেতাদের সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে গরু সংগ্রহে জোর দিয়েছি। আমাদের যারা খামারী ও উদ্যোক্তা রয়েছেন তাদেরকে আমরা একটা মূল্য সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছি। ফলে দাম বৃদ্ধির কোনও সুযোগ নেই। আমাদের এই মূল্য-সীমা সারাদেশে পশুর বাজারের উপর প্রভাব ফেলেছে। এটা একটা ইতিবাচক দিক। এই মূল্যসীমার কারণে এবারে গরুর দাম বাড়াতে পারবেনা অন্যরা।’

ইজারাদাররাও ক্ষতির মুখে

হাটে গরু বিক্রি না হওয়ায় এবার কোরবানির হাটের ইজারাদাররাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কারণ গরু বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের একাংশ থেকে তাদের আয় আসে। কিন্তু এবার সুবিধা করতে পারছে বলেও জানা যায়। এদিকে মহামারীর প্রভাবে গত বছরের তুলনায় এবার ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কোরবানি কমতে পারে বলেও অনেকে ধারণা করছেন।

সারাদিন/২৯জুলাই