ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ‘ফি’ খতিয়ান অভিভাবকদের জানানোর নির্দেশ

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:২৩ অপরাহ্ণ, ২৯/০৭/২০২০

নিবন্ধন ছাড়া কোনও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল আর পরিচালিত হবে না। দেশের প্রচলিত আইন অনযায়ী সব ইংরেজি মাধ্যম স্কুলকে নিবন্ধন নিতে হবে। আর নিবন্ধিত সব স্কুলের আয়-ব্যায়ের হিসাব জানাতে হবে অভিভাবকদের। ‘বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা-২০১৭‘ অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নিচ্ছে সরকার।

প্রায় তিন বছর আগে এই বিধিমালা করা হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। করোনার এই সময় টিউশন ফি নিয়ে অভিভাবকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিধিমালা অনুযায়ী ইংরেজি মাধ্যম স্কুল পরিচালনা নিশ্চিত করতে নির্দেশ নিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং উপমন্ত্রী ব্যরিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। সম্প্রতি এক বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেশের সকল শিক্ষা বোর্ড ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকে এই বিধিমালা বাস্তবায়নের জন্য লিখিত নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং এই নয়টি বোর্ডের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অঞ্চলের উপ-পরিচালকদের চিঠি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

এ বিভাগের অতিরিক্ত-সচিব (মাধ্যমিক) মোমিনুর রশিদ আমিন বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের অনেক বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নেই, সেগুলোকে শৃঙ্খলায় আনতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত হতে হবে। আইন অনুসারে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আর রেজিস্ট্রেশন করার সময় তাদের বিভিন্ন ধরনের ফি কত সেটা অভিভাবকদের জানাতে হয়। কিন্তু এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ধরনের ফি নিয়ে মাঝে মাঝে অভিযোগ পাওয়া যায়।

‘বিদেশি কারিকুলামে পরিচালিত বেসরকারি বিদ্যালয়ের নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত’ শিরোনামের ওই চিঠিতে বিদেশি কারিকুলামে আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ইংরেজি মাধ্যমের পাঠ্যসূচি পরিচালিত ‘বেসরকারি বিদ্যালয় নিবন্ধন বিধিমালা, ২০১৭’ এর ১৯ (৩) ধারাটি মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, বেসরকারি বিদ্যালয়ে সহপাঠ কার্যক্রম পরিচালনা, কোনো বিশেষ সুবিধা এবং উন্নতমানের যন্ত্রপাতি বা প্রযুক্তি সুবিধা ব্যবহারের জন্য ছাত্রছাত্রীদের নিকট হতে ফি আদায় করা যাবে, তবে অনুরূপ ক্ষেত্রে ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত তার পূর্ণাঙ্গ ব্যয় বিবরণী অভিভাবকদের লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সাময়িক নিবন্ধন আবেদন ফরমে প্রতি মাসে বা বছরে শ্রেণিভেদে আদায় করা টিউশন ফি, ভর্তি ফি, খেলাধুলা ফি, গ্রন্থাগার ফি, টিফিন ফি, মুদ্রণ ফি এবং অন্যান্য ফি এর পরিমাণ ও বিবরণী উল্লেখ করার নিয়ম আছে।

এ ধরনের নিবন্ধিত এবং নিবন্ধনহীন কতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে তার একটি তালিকাও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে অনুরোধ করা হয়েছে ওই চিঠিতে।

বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্যারেন্টস ফোরামের আহ্ববায়ক এ কে এম আশরাফুল হক বলেন, ইংরেজি মাধ্যমের কোনো প্রতিষ্ঠানই তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব অভিভাবকদের জানায় না।
এটা আমাদের দাবির মধ্যেই আছে, আমরাও চাই কোন খাতে কত ফি নেওয়া হচ্ছে এবং কীভাবে তা খরচ করা হচ্ছে তা আমাদের জানানো হোক।


সারাদিন/২৯জুলাই/এএইচ