র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছেন সাহেদ

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ণ, ২৯/০৭/২০২০

করোনাভাইরাস পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রস্তুতকারী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিমকে র‌্যাব-৬-এর খুলনা কার্যালয়ে সাহেদ করিমকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

অবৈধ অস্ত্র-গুলি ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে সাহেদ পাওনাদারকে অবৈধ অস্ত্র দিয়ে হুমকি দিতেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ঢাকায় উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা চিকিৎসা জালিয়াতির মামলার তদন্ত করছে র‌্যাব-১। অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, র‌্যাবের ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হলে সাহেদকে আবার ২৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হবে। এ সময় কারাবন্দি মাসুদ পারভেজসহ সাহেদের সহযোগীদেরও একসঙ্গে রিমান্ডে নেবে পুলিশ।

র‌্যাব-৬-এর বজলুর রশিদ সাতক্ষীরা ক্যাম্প কমান্ডার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বলেন, সাহেদকে গ্রেপ্তারের সময় জব্দ অস্ত্র-গুলিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রিমান্ড শেষে তাঁকে সাতক্ষীরা আদালতে হাজির করা হবে বলে তিনি জানান।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাহেদকে গত সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে খুলনা র‌্যাব-৬ কার্যালয়ে আনা হয়। এর আগে গত ২৩ জুলাই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম সাতক্ষীরার ভার্চুয়াল আদালতে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

২৬ জুলাই আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার রায় শুনানি শেষে সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

সাহেদ করিম করোনার ভুয়া পরীক্ষার খবর প্রকাশের পর আত্মগোপন করেছিলেন। গত ১৫ জুলাই ভোরে সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তবর্তী দেবহাটা উপজেলার কমলপুর গ্রামের ইছামতী খাল পেরিয়ে নৌকায় করে ভারতে পালানোর সময় র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তাঁর কাছ থেকেগুলি ও অস্ত্র উদ্ধার ঘটনায় সাতক্ষীরায় অস্ত্র আইনে মামলা করে র‌্যাব।

ঢাকায় র‌্যাবের কর্মকর্তারা বলছেন, সাহেদ ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধ অস্ত্র রাখতেন। পাওনাদাররা টাকা চাইলে এসব অস্ত্র দিয়ে হুমকি দিতেন বলে জানা যায়। সাহেদের বিরুদ্ধে ৪৮টি মামলার কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে অনেকেই নতুন করে মামলা দায়েরে আগ্রহী নন।

তাঁদের পুরনো মামলায় আইনগত সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ জন প্রতারণার অভিযোগ করেছেন। তপন চন্দ্র সাহা উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি বলেন, র‌্যাবের হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ড শেষ হলে তাঁদের থানায় তিন মামলায় ২১ দিন এবং উত্তরা পূর্ব থানায় এক মামলায় আরো সাত দিনের রিমান্ডে আনা হবে সাহেদকে। সাহেদের প্রধান সহযোগী এবং রিজেন্ট গ্রুপের এমডি মাসুদ পারভেজের ২১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।

সাহেদের সঙ্গে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকেও রিমান্ডে আনা হবে। কেন্দ্রীয় কারাগারে মাসুদকে বর্তমানে রাখা হয়েছে। বর্তমানে রিজেন্ট হাসপাতালের এমডি মিজানুর রহমান একটি মামলায় সাত দিনের রিমান্ডে আছেন উত্তরা পশ্চিম থানায়। মেট্রো রেলে কর্মরত ৭৬ কর্মীর ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে একজন ঠিকাদার সাহেদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

সারাদিন/২৯জুলাই/টিআর