বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, সুন্দরবনের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় বসছে নেট

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২:১০ অপরাহ্ণ, ২৯/০৭/২০২০

আজ ২৯ জুলাই, বাঘ রক্ষার শপথ নিয়ে সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব বাঘ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাঘ বাড়াতে পণ, রক্ষা করি সুন্দরবন’। করোনার কারণে এবারের বাঘ দিবসে বড় কোনো অনুষ্ঠান থাকছে না। তবে ওয়েবিনারে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। আলোচনায় পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নিবেন।

এদিকে বাঘ বাঁচাতে সুন্দরবনের ৬০ কিলোমিটার এলাকায় এবার প্রথমবারের মতো নাইলনের নেট বসাতে যাচ্ছে বন বিভাগ। এর মধ্যে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জয়মনির ঘোল থেকে দাসের ভাড়ানি পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার এবং পশ্চিম বন বিভাগের আওতায় কইখালী থেকে কদমতলা পর্যন্ত বাকি ২০ কিলোমিটার বসানো হবে। পাশাপাশি বাঘের সংখ্যা বাড়াতে ৪৯ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগ জানায়, চলতি বছরের মধ্যে অনুমোদন পেলে ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করা যাবে প্রকল্পটি।

এদিকে নেট প্রকল্পের পরিচালক জাহিদুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দুটি কারণে নাইলনের নেট বসানো হচ্ছে। এক. মানুষ ও বাঘের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা সংঘর্ষ কমানো এবং দুই. সুন্দরবনে এখন যেভাবে যত্রতত্র মানুষ ঢুকে পড়ে, সেটা বন্ধ করা।’ ভারতের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশটিতে নাইলনের নেট দেওয়ায় তারা বেশ সুফল পেয়েছে। সেখানে মানুষ ও বাঘের মধ্যকার সংঘর্ষ কমে এসেছে। নাইলনের নেট বসানোর সুফল বিষয়ে ভারতীয় সাংবাদিক জয়ন্ত বসু বলেন, ‘উত্তর চব্বিশ পরগনায় সুন্দরবন আর লোকালয় খুবই পাশাপাশি। নাইলনের নেট বসানোর আগে সেখানে প্রায় সময়ই বাঘে-মানুষে লড়াই হতো। তবে নাইলনের নেট বসানোর পর তা অনেকটাই কমে এসেছে।’

রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ২০১৫ সালের বাঘশুমারির প্রতিবেদন অনুসারে, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে মাত্র ১০৬টি বেঙ্গল টাইগার ছিল। পরে, ২০১৭-২০১৮ বাঘশুমারিতে সেখানে ১১৪টি বাঘ শনাক্ত করা হয়।

বন বিভাগের তথ্য মতে, ২০০১ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ৪৮টি বাঘ মারা গেছে। এর মধ্যে ২২টি সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগে এবং ১৬টি পশ্চিম বিভাগে মারা যায়। এ সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১০টি বাঘের চামড়া উদ্ধার করে।

প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) মো. আমির হোসাইন চৌধুরী বলেছেন, “বাঘ সংরক্ষণ” নামে একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে যা আগামী মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তিন বছরের এ প্রকল্পে ব্যয় ৪৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি যদি অনুমোদিত হয়, তাহলে ২০২১ সালের জানুয়ারির মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল ইসলাম বলেছেন, হাজার হাজার মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

বাঘের জনসংখ্যা সংরক্ষণে সকলকে সম্পৃক্ত করা উচিত এবং রাজনৈতিক লোকদেরও প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
সারাদিন/২৯জুলাই/এএইচ