ল্যাবের ভুলে নেগেটিভ রিপোর্ট পান ঐশী, স্বীকার এনআইএলএমআরসি

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১:৪৯ অপরাহ্ণ, ২৮/০৭/২০২০

ছবি: সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান

সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের মেয়ে ঐশী খানের করোনা পরীক্ষার ‘নেগেটিভ’ রিপোর্টটি নিজেদের ভুলের কারণে হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন সরকারের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের (এনআইএলএমআরসি) পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মো. শামসুজ্জামান। তবে ঐশী খানের ‘পজিটিভ’ রিপোর্টটি সঠিক বলে দাবি করেন তিনি।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রতিষ্ঠানটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম গতকাল বিকেলে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ইতিমধ্যে ওই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করে তাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এটুকু বলা যায়, যদি ব্যক্তি পর্যায়ে কারো উদ্দেশ্যমূলক কারণে এমনটা ঘটে থাকে, অব্যশ তাকে শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’

এ সময় তিনি আরো জানান, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান বিষয়টি তাঁকে অবহিত করেছেন।

এর আগে গতকাল সকালে সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য শাজাহান খান রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গিয়ে মহাপরিচালকের কাছে তাঁর মেয়ের রিপোর্টের কপি দিয়ে ঘটনাটি দেখতে বলেন।

মহাপরিচালকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেবল ঐশীর রিপোর্টই দুই রকম নয়, আমার আরেক মেয়ের রিপোর্টও ল্যাবএইড হাসপাতালে এক রকম হয়েছে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে আরেক রকম হয়েছে। আমি এই বিষয়টি মহাপরিচালককে দেখার জন্য বলেছি।’

ঐশী খানের রিপোর্টে ভুলের বিষয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন ল্যাবরেটরি অ্যান্ড রেফারেল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল খায়ের মো. শামসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলনে ভুল স্বীকার করে জানান, ঐশী খানসহ যাদের নমুনা গত ২৪ জুলাই তাঁদের ল্যাবে গেছে, তা ধাপে ধাপে পরীক্ষা করা হয়। পরে ওই পরীক্ষাগুলোর রিপোর্টও তৈরি হয় ঠিক ভাবেই। কিন্তু কয়েকটি রিপোর্ট সার্ভারে পোস্টিং দেওয়ার সময় দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা ভুলে নেগেটিভ লিখে দেন। এ অবস্থায় পোস্টিং হওয়ার কিছুক্ষণ পরই ভুল ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে তা সংশোধন করে সঠিক রিপোর্ট পুনরায় সার্ভারে পোস্টিং দেওয়া হয়, যা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ বিমানবন্দরের সার্ভারেও যথারীতি চলে যায়।

কিন্তু সংশোধিত রিপোর্ট পোস্টিং হওয়ার আগেই হয়তো এসএমএস পেয়ে ঐশী খান প্রিন্ট বের করেন এবং সেটি নিয়ে বিমানবন্দরে চলে যান।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রথম ভুল রিপোর্টের পর ঐশী খানের কাছে সংশোধিত এসএমএসটিও আগের মতোই যাওয়ার কথা। সেটি হয়তো তিনি খেয়াল করেননি, যে কারণে এমন জটিলতা হয়েছে। যা হয়েছে তা আমাদের ভুলের কারণেই হয়েছে। এ জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

সারাদিন/২৮জুলাই/টিআর