সৌন্দর্যের রানী মাধবকুন্ড জলপ্রপাত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৭:৩৯ অপরাহ্ণ, ২৭/০৭/২০২০

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ জলপ্রপাত হিসেবে সমধিক পরিচিত মাধবকুন্ড জলপ্রপাত। যা সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলায় অবস্থিত। পাথারিয়া পাহাড় (পূর্বনাম: আদম আইল পাহাড়) কঠিন পাথরে গঠিত; এই পাহাড়ের উপর দিয়ে গঙ্গামারা ছড়া বহমান। এই ছড়া মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত হয়ে নিচে পড়ে হয়েছে মাধবছড়া। অর্থাৎ ঔগঙ্গামারা ছড়া হয়ে বয়ে আসা জলধারা

পাথারিয়া পাহাড়ের গাঁ বেয়েই মাধবকুন্ড জলপ্রপাতের সৃষ্টি। দৈর্ঘ্য প্রায় তিরাশি মিটার উচু পাথরের টিলার ওপর থেকে অবিরাম গতিতে ঝর্ণা আছড়ে পড়ছে নিচে। প্রায় ১৮০ ফুট উপর হতে অবিরাম গতিতে জলরাশি নিচে পতিত হওয়ার ফলে নিচে সৃষ্টি হয়েছে একটি কুন্ড। আর এই কুন্ডের প্রবাহমান বারিষার মতো স্রোতধারা শান্তির বারিধারার মতো মাধবছড়া দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

মাধবকুন্ডের নাম নিয়ে নানা কথা প্রচলিত আছে। কেউ কেউ বলেন, শ্রীহট্রের রাজা গঙ্গাধ্বজ ওরফে গোধ্বর্ন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মান করতে গেলে সেখানে মাটির নিচে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় একজন সন্ন্যাসীকে দেখতে পান। তারপর তিনি উক্ত সন্ন্যাসীর পদ বন্দনা ও স্তুতি আরম্ভ করেন। সন্ন্যাসী নানা উপদেশসহ তাকে ঐকুন্ডে মধুকৃষস্না ত্রয়োদশী তিথিতে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেন। রাজা গঙ্গাধ্বজ সন্ন্যাসীর কথামতো তাকে ঐ কুন্ডে বিসর্জিত করা মাত্রই তিনবার মাধব ! মাধব !! মাধব !!! দৈব্যবানী উচ্চারিত হয়। ধারনা করা হয় এই দৈব্যবানী থেকেই মাধবকুন্ড নামের উৎপত্তি।

কুণ্ডের ডানপাশে পাথরের গায়ে সৃষ্টি হয়েছে একটি গুহার, যার স্থানীয় নাম কাব। এই কাব দেখতে অনেকটা চালাঘরের মতো। মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে স্নানর্থীরা কাবের নিচে দাঁড়িয়ে ভিজা কাপড় পরিবর্তন করে থাকেন।
কখন যাবেন

অনেকে মাধবকুন্ড যাবার জন্য ভুল টাইম সিলেক্ট করেন। শীতকাল যদিও ভ্রমনের জন্য আদর্শ সময় কিন্তু ঝর্না দেখার জন্য সেটা প্রযোজ্য নয়। পানি দেখতে পানির সিজন তথা বর্ষাকাল হচ্ছে উপযুক্ত সময়। সবুজ প্রকৃতির সাথে মিতালী করতে এবং ঝর্ণার কুয়াশায় সিক্ত হতে তাই বর্ষায় আসুন মাধবকুন্ড। ঝর্ণায় তখন প্রচুর পানি পাবেন। চেষ্টা করবেন দুপুরের দিকে যেতে। বিকাল হলে খুব তাড়াতাড়ি চারিদিক অন্ধকার হয়ে যায়।

কিভাবে যাবেন

ট্রেন: ঢাকা থেকে – কুলাউড়া – সি.এন.জিতে কাঠালতলী – সি.এন.জিতে খলাগাউ – রিক্সায় মাধবকুন্ড

বাস: ঢাকা থেকে – মৌলভীবাজার – বাসে কাঠালতলী – সি.এন.জিতে খলাগাউ – রিক্সায় মাধবকুন্ড

সিলেট থেকে:

বাস: কদমতলী – বড়লেখা – সি.এন.জিতে কাঠালতলী – সি.এন.জিতে খলাগাউ – রিক্সায় মাধবকুন্ড

ট্রেন: সিলেট ষ্টেশন – কুলাউড়া – সি.এন.জিতে কাঠালতলী – সি.এন.জিতে খলাগাউ – রিক্সায় মাধবকুন্ড

সি.এন.জি: নতুন ব্রিজের নিচ থেকে -বিয়ানিবাজার – বিয়ানিবাজার থেকে সি.এনজিতে বড়লেখা – সি. এন.জিতে কাঠালতলী – সি.এন.জিতে খলাগাউ – রিক্সায় মাধবকুন্ড

কোথায় খাবেন
মাধবকুণ্ডে মাঝারি মানের রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী। তাই প্রয়োজনে নিজেদের খাবার বাইরে থেকে কিনে নিয়ে যেতে পারেন কিংবা সিলেট ফিরে জিন্দাবাজার এলাকায় পানসী, পাঁচ ভাই কিংবা পালকি রেস্টুরেন্টের প্রায় ৩০ রকম ভর্তা চেখে দেখতে পারেন। মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল শহরেও অনেক মানের খাবার হোটেল আছে। আপনার পছন্দমত কোন হোটেল থেকে খেয়ে নিতে পারবেন।

সারাদিন/২৭জুলাই/এএইচ