প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবের মৃত্যুতে বিপ্লব বড়ুয়ার শোক

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:৫১ অপরাহ্ণ, ১৭/১২/২০১৯

বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, বিবি, ওএসপি, পিএসসি বীর বিক্রম-এর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া। তিনি  মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর)   বিকাল ৫:১৩ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি অইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই কন্যা রেখে গেছেন।

শোক বার্তায় ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেন, এই কিংবদন্তি লোহাগড়া সাতকানিয়া তথা চট্টগ্রাম বাসীর অহংকার ও গর্বের ধন।প্রচার-বিমুখ, আমানতদার ও সদালাপী এই মানুষটি  প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত স্নেহভাজন ও আস্থা-ভাজন ছিলেন। একজন নির্লোভ,সৎ ও মেধাবী সেনা কর্মকর্তা হিসেবে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে মিয়া মুহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের নাম। একজন চৌকস সেনা অফিসার হিসেবে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে অংশগ্রহণ করেন।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল ও কর্মদক্ষতার কারণে তাকে শান্তিরক্ষী মিশন থেকে ফিরে আসার পর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। একজন দেশ প্রেমিক ও নিবেদিতপ্রাণ সেনা কর্মকর্তা হিসেবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অত্যন্ত আস্থাভাজনে পরিণত হন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী।

জানা যায়, ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাসে তাকে এস.এস.এফ এর মহাপরিচালক পদে অধিষ্ঠিত করা হয়। সফলতার জন্য পরিশ্রমের সিঁড়ি বেয়ে উঠা এই মহান ব্যক্তিকে ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসে মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণের এই দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় তিনি প্রিয় গ্রাম চুনতি ও লোহাগড়া উপজেলার উন্নয়নে নিজেকে বিলিয়ে দেন।

লোহাগড়া উপজেলার যেসকল দুর্গম রাস্তায় মানুষের চলাচলে অসুবিধা হত সেখানে তিনি ব্রীজ ও পাকা রাস্তা নির্মাণ করেন। প্রিয় চুনতি ও লোহাগাড়া উপজেলায় তিনি যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন তা ছিল কল্পনাতীত।

তিনি ১৯৬০ সালের ১জানুয়ারি চট্টগ্রামের লোহাগড়া উপজেলার চুনতি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।  পিতা মরহুম ইসহাক মিয়া ও মাতা মরহুমা মেহেরুন্নিছা।  চট্টগ্রামের লোহাগড়ার চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদরাসায় উনার পড়ালেখার হাতে-খড়ি। পরবর্তীতে ফৌজদারহাট ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজে ৭ম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

এখান থেকে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে ১৯৭৫ সালে এস.এস.সি ও ১৯৭৭ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেন। তিনি ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। দুই বছর বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীতে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর ১৯৭৯সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্ত হন।

বিশৃঙ্খল,বিপদ সংকুল ও গোলযোগপূর্ণ পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯৯৫-৯৬ সালে দায়িত্ব পালনকালে তার সাহসী নেতৃত্ব, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতার কারণে অনেক জটিল ও কঠিন সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব হয়েছিল। দেশের প্রতি নির্ভয় আত্মত্যাগ, পাহাড়সম মানসিক দৃঢ়তা ও দেশ সেবার মহান ব্রত সবকিছু বিবেচনায় তাকে মর্যাদাপূর্ণ ‘বীর বিক্রম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

জনপ্রিয় এ মানুষটি মিশে যান প্রিয় মাটি ও মানুষদের সাথে। ক্ষুধা,দুর্নীতি ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে  প্রধানমন্ত্রীর সহযোদ্ধা হিসেবে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন।

সারাদিন/১৭ ডিসেম্বর/আরটি