হেমন্তের শেষ দিন হলেও সারাদেশে শীত পড়ে গেছে। আসলে গ্রামে শীতকাল মানেই সকাল বেলা খেজুরের রস খাওয়া। এই মৌসুমেই নানা ধরনের পিঠা-পুলির উৎসব গ্রাম বাংলায় হয়ে থাকে। আর এই সময়ে মানুষ এইসব উৎসবে মেতে উঠেনা, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

এই সময়ে গরম গরম পিঠা, আর উষ্ণ হাওয়া নিতে কার না ভালো লাগে। কিন্তু কথায় আছে, ‘কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।’ শীত কারো জন্য আশির্বাদ হয়ে আসে। আবার কারো জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। যারা ধনী তাদের কাছে এই শীত উৎসবমুখর হলেও দরিদ্রদের কাছে শীত কাল কঠিন সময় পার করার মতো।

ধনী লোকেরা শীতে নানা উৎসবে আমেজে মেতে উঠে। এদিকে দরিদ্ররা একটি গরম কাপড় পায় না শীত নিবারনের জন্য। অনেকে আবার এই শীতে সারারাত না ঘুমিয়ে আগুন জ্বালিয়ে আগুনের সামনে বসে থাকে।

এদিকে রাজধানীতেও শীত পড়েছে। শীতে গরীবরা অসহায় হয়ে পড়েছে। তবে রাজধানীর ফুটপাতে গরম পোশাকের দাম খুবই কম।

রাজধানীর গুলিস্তানের ফুটপাতে বসে অজস্র গরম পোশাক বিক্রি হচ্ছে। তার দামও হরেক রকমের। তবে সেখানে আমেনা বেগম নামের এক ক্রেতা বলেন, আগের বছর গুলোর চেয়ে এখানে একটু বেশি দিয়ে কাপড় কিনতে হচ্ছে। তবে সারাদেশেও কাপড়ের দাম নাগালের মধ্যে বলে জানান ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

এবিষয়ে পঞ্চগড় জেলার তেতুলিয়ার আসাদুল হক নামের এক কৃষক বলেন, আমাদের এখানে প্রচুর শীত পড়ে। এখনও কঠিন শীত পড়েনি। তবে গত বছরের মতো শীত পড়লে অবস্থা খুব খারাপ হবে। তাই আমরা সাহায্য চাই।

এই প্রসঙ্গে পঞ্চগড় জেলার মকবুলার রহমান সরকারি কলেজের কারিমুল হক নামের এক শিক্ষার্থী সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, এখানে যারা গরীব তাদেরকে কেউ সাহায্য করে না। তবে বিভিন্ন জায়গা থেকে যা সাহায্য আসে তা তারা এখানকার মাতব্বরদেরকে দিয়ে চলে যায়। তাই যারা দুঃখ কষ্ট পায় তাদের দিকে কেউ তাকায় না।

এ সম্পর্কে গাইবান্ধা জেলার আব্দুল করিম নামের এক কৃষক বলেন, আমরা তো আর কারো কাছ থেকে কোনো সাহায্য নেই না। যা দেখি, আমাদের চেয়ে ভালো অর্থ ওয়ালারা সাহায্য নিয়ে আমাদেরকে আর দেয় না।

তবে দিনাজপুর জেলার এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা খুব সুন্দর করে গরীব মানুষ দেখে দেখে গরম কাপড় বিতরন করি।

এ প্রসঙ্গে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী আমিনুর হক সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, আমরা প্রতিবছরই বিএনসিসি সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ থেকে উত্তরবঙ্গে গরম পোশাক দিয়ে আসি।

শীতে যারা কষ্টে ভোগে অধিকাংশই আমাদের দেশের কৃষক। যাদের আমরা এদেশের প্রাণ বলে থাকি। তারা তাদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গরীবদের দুর্দশা নিয়ে কবি বেগম রোকেয়া বলে গেছেন, ‘রোদে পুড়ে খাইটা মরিরে ভাই পাছায় জোটেনা ত্যানা, বৌয়ের পৈছা বিকায় তবু ছৈলা পায়না দানা।’

আমাদের দেশে এ কষ্টটা বেশি ভোগে কৃষকেরা। এছাড়াও শীতে বেশি দুর্দশায় পড়ে উত্তর জনপদের মানুষেরা। বিশেষ করে হিমালয় কন্যা খ্যাত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার মানুষেরা এই শীতে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে।

২০১৮ সালে তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় যা ছিল ২ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ বছর তেঁতুলিয়ায় ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা ডিসেম্বরের শেষে আরও কমতে পারে।

শীতকাল বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সাথী নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ‘শীত আসলেই আনন্দদায়ক হলেও সবার জন্য আনন্দদায়ক নয়। শীতে আমাদের দরিদ্রদের পাশে থাকা উচিত।’

সারাদিন/১৫ডিসেম্বর/টিআর