বাজেট বাস্তবায়নে সবাই এগিয়ে আসবে, প্রত‍্যাশা অর্থমন্ত্রীর

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, ২৯/০৬/২০২০

প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, “আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব ইনশাআল্লাহ। এই বাজেটটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে আমাদের দেশের সকল মানুষ, যারা আমাদের প্রাণশক্তি।”

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের মুলতবী অধিবেশন শুরু হলে ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর দেওয়া সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট নজিরবিহীন সঙ্কটের মধ্যে ১১ জুন অর্থমন্ত্রী মোট পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার যে বাজেট প্রস্তাব করেছেন তাতে ৬৬ শতাংশ অর্থ রাজস্ব আয় থেকে যোগানোর পরিকল্পনা রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বরাবরই অনেক পিছিয়ে থাকে। মহামারীর কারণে তিন মাস ধরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় বন্ধ থাকার পাশাপাশি আগামী দিনের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিপুল এই রাজস্ব আয়ের বড় লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রচণ্ড সংশয় প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

মুস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা প্রমাণ করব, এত বড় বাজেটও বাংলাদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। আমরা জেনেশুনেই কঠিনেরে ভালোবেসেছি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিগত পাঁচ বছরের প্রত্যেকটি বাজেটে আমরা যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম তার চাইতে প্রকৃত অর্জন আরও অনেক বেশি ছিল। গত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ। যা বিশ্বের সবার ওপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চীন। সেখানে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭৭ শতাংশ। আর ভারত ছিল ১১৭ শতাংশে। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপির আকার বেড়েছে তিনগুণ।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গতবছর অটোমেশন শুরু করেছিলাম। শুরু করেছিলাম কিন্তু শেষ করতে পারিনি। এই করোনার জন্য তা শেষ হয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, যতদ্রুত সম্ভব এই বছর এটা আমরা বাস্তবায়ন করবো ইনশাল্লাহ।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বারবার একটিমাত্র কথা উঠে আসে যে, আমাদের রেভিনিউ টু জিডিপির অনুপাত ১০ ভাগেরও নিচে। আমাদের মতো দেশ কারোরই ১৮ শতাংশের নিচে না। আমরা হিসাব করে দেখেছি, এই ১০ ভাগ থেকে যদি আমরা ১৪ ভাগে উঠতে পারি, তাহলে আমাদের বছরে আমরা অর্জন করতে পারি আরও এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। আরও বেশি করতে পারলে তো আরও বেশি সম্ভাবনা আছে। এজন্য আমাদের অটোমেশন দরকার।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক-শ্রমিক, কামার-কুমার, জেলে, তাঁতী, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যানচালক, রিকশাচালকসহ সব পেশার মানুষ। পান দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির এবং ছোটবড় সব ব্যবসায়ী সব শ্রেণির নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্যই এবারের বাজেট। এদেশের কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে এ বাজেট থেকে বাদ দিতে পারিনি। কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত আমাদের বাজেট ঘাটতিও।’

অর্থমন্ত্রীর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাজেটের ওপর বক্তৃতায় আর্থিক প্রস্তাবে পবির্তন আনার ক্ষেত্রে সাধারণত প্রধানমন্ত্রী কিছু বিষয় বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। পরে সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেটে কিছু পরিবর্তন আসে। তবে এবার তা ঘটেনি।

সারাদিন/২৯জুন/এএইচ