চূড়ান্ত হয়েছে অ্যান্টিবডি টেস্টের নীতিমালা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৫:৫২ অপরাহ্ণ, ২৮/০৬/২০২০

র‌্যাপিড টেস্টিং অ্যান্টিবডি কিট ব্যবহারের নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। এখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে এ কিট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে। এই কিট নভেল করোনাভাইরাস শনাক্তের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নভেল করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য এই কিট ব্যবহার হবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সালাউদ্দিন বলেন, “আমরা এই কিট ব্যবহারের নীতিমালা করেছি সার্ভেইলেন্সের জন্য। কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ্য হলে তার রক্তে ইমিউনিটি তৈরি হল কিনা তা অ্যান্টিবডি পরীক্ষায় বোঝা যাবে। অ্যান্টিবডি থাকলে তিনি প্লাজমা দিতে পারবেন। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য প্লাজমাদাতাদের চিহ্নিত করা সহজ হবে।”

তিনি বলেন, গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালস একটি র‌্যাপিড টেস্টিং কিট তৈরি করলেও ‘মানোত্তীর্ণ’ হয়নি বলে তাদের অনুমতি দেওয়া যায়নি। আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এই কিট আমদানির অনুমতি চেয়েছে।

“এ অবস্থায় কী কী শর্ত পূরণ করতে পারলে কিট অনুমোদন দেওয়া যাবে, তা ঠিক করা জরুরি হয়ে পড়েছিল। সে কারণেই বিশেষজ্ঞ কমিটি বৈঠক করে একটা নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে।”

বিএসএমএমইউ, আইসিডিডিআর,বি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা রয়েছেন এই কমিটিতে। ২১ ও ২৩ জুন দুই দফা বৈঠক করে কমিটি এই নীতিমালা চূড়ান্ত করে।

সেখানে বলা হয়েছে, সেরো সার্ভেইল্যান্স এবং কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপি ও গবেষণার কাজে র‌্যাপিড টেস্টিং অ্যান্টিবডি কিট ব্যবহার করা যাবে। ‘অপব্যবহার’ রোধে শুধু ল্যাবরেটরিতে এই কিট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এম এ খান বলেন, দেরিতে হলেও এটা ভালো উদ্যোগ। “বাংলাদেশে এখন অনেক বেশি মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। কিন্তু অনেকেই টেস্ট করার সুযোগ পাননি। যদি সার্ভেইলেন্স হিসেবে র‌্যাপিড কিটের মাধ্যমে অ্যান্টিবডি টেস্ট করা যায়, তাহলে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যাবে। তাছাড়া রক্তে অ্যান্টিবডির মাত্রাও জানা যাবে।”

কনভালসেন্ট প্লাজমা থেরাপির জন্য অ্যান্টিবডি পরীক্ষা জরুরি। এ কারণেও এই কিট প্রয়োজন বলে করেন শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল হক।

তিনি বলেন, প্লাজমা দেওয়ার আগে জানতে হবে দাতার প্লাজমায় প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না, যে অ্যান্টিবডি আরেকজনের কাজে লাগবে।

“কারণ একটি নির্দিষ্ট মাত্রায় না থাকলে ওই প্লাজমা আরেকজনকে দিয়ে লাভ নেই। ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী কোভিড-১৯ আক্রান্ত অনেকের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে না। সে ধরনের দাতার প্লাজমা নিয়ে কোনো লাভ হবে না।”

অধ্যাপক আশরাফুল হক বলেন, কোভিড-১৯ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় নানা কারণে একটি আরেকটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার সুযোগ থাকে। ফলে অনেকে নেগেটিভ হলেও ফল পজিটিভ আসতে পারে। ওই ব্যক্তি যখন প্লাজমা দিতে যাচ্ছেন, তখন হয়ত দেখা যাচ্ছে তিনি আক্রান্তই হননি।

“ওই প্লাজমা কোভিড-১৯ রিকভারড প্লাজমা হবে না। এছাড়া প্লাজমা দেওয়ার পর দেখতে হবে ওই প্লাজমা কাজ করছে কি না। সেজন্যও অ্যান্টিবডি টেস্ট জরুরি।”

সারাদিন/২৮জুন/টিআর