করোনায় বেকার হয়ে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:২৪ অপরাহ্ণ, ২৭/০৬/২০২০

মহামারী করোনাভাইরাসে বিপর্যস্ত পুরো বিশ্ব। দেশে প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। এর শেষ কোথায় তা জানা নেই কারও। বৈশ্বিক অর্থনীতির ভঙ্গুর অবস্থার ধাক্কা লেগেছে দেশেও। কাজের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে ছোটখাট অনেক গার্মেন্টস। যার ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেক শ্রমিক।

এছাড়া ব‍্যয় কমাতে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক ছাটাই করছে। আবার অনেকে বেতন ভাতাও কমিয়ে দিচ্ছে। এতে ঢাকায় বাড়ি ভাড়া দিয়ে থাকতে না পেরে অনেক পরিবার ঢাকা ছাড়ছেন। বাধ্য হচ্ছেন গ্রামে ফিরতে।

ঢাকা-পাটুরিয়া মহাসড়কে রাজধানী ছেড়ে গ্রামমুখী মানুষের অসংখ্য চিত্র শনিবারও (২৭ জুন) দেখা যায়। ভাগ্য বিড়ম্বিত এসব ভুক্তভোগীর অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবার গ্রামে ফিরে যাওয়ার কারণ প্রায় একইরকম।

ঢাকার মিরপুরের রূপনগরে বসবাস করতেন আশরাফ হোসেন। একটি কোম্পানিতে করতেন চালকের কাজ। এখন তার কাজ পুরোটাই বন্ধ। প্রতিমাসে ১১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু এখন সেই পরিমাণ অর্থ উপার্জন করা প্রায় অসাধ্য হয়ে গেছে। তাই তিনিও পরিবার নিয়ে ফরিদপুরের আটরশিতে গ্রামের বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। গ্রামে থাকলে প্রতিমাসে বাড়ি ভাড়ার টাকা নিয়ে অন্তত দুশ্চিন্তা করতে হবে না।

ঢাকাসহ সারা দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ২ হাজার ৩৭১ জনের সাক্ষাৎকার নিয়ে ব্র্যাক মে মাসে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এতে দেখা যায়, ৩৬ শতাংশ লোক চাকরি বা কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। ৩ শতাংশ লোক চাকরি থাকলেও বেতন পাননি। আর দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে যারা কাজ করেন, তাদের ৬২ ভাগই কাজের সুযোগ হারিয়েছেন। করোনার কারণে ১০টি জেলার মানুষের আয় কমে গেছে। ঢাকা জেলার মানুষের আয় কমেছে ৬০ ভাগ।

টিকাটুলির এক প্রকাশনা ব্যবসায়ী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) লোন করে দেড় বছর আগে ৬৫ লাখ টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন। গত দুমাস ব্যবসা বন্ধ থাকায় জমানো টাকা থেকে কর্মচারীদের বেতন দিয়ে বিদায় করেছেন। কিন্তু দুই মাসে পাহাড় সমান দাঁড়িয়েছে ফ্ল্যাটের কিস্তি। এখন সেই ফ্ল্যাট বিক্রির কথা ভাবছেন তিনি।

এদিকে বছরের মাঝখানে রাজধানী ছাড়ায় তাদের সন্তানদের লেখাপড়াও অনিশ্চয়তার মধ্যে চলে যাচ্ছে। গ্রামে গিয়ে কোনো স্কুলে ভর্তি হতে গেলেও অন্তত আগামী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। শহরে বেড়ে ওঠা এসব বাচ্চারা গ্রামের পরিবেশে কতটুকু মানিয়ে নিতে পারবে, সেটাও ভাবিয়ে তুলছে তাদের।

এমনিতেই নানা কারণে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের প্রায় সবসময়ই ঝামেলা থাকতে দেখা গেছে। এবার করোনাভাইরাস দু-পক্ষকেই বিপদে ফেলেছে। করোনায় ঢাকার বেশিরভাগ বাড়িওয়ালাই লোকসানে পড়েছেন।

মোহাম্মদপুরে মোহাম্মাদীয়া হাউজিং লিমিটেডের সাত নম্বর রোডের বাড়িওয়ালা আশিকুর রহমান জানান, তার চারতলা বাড়ির দুই পরিবার মে মাসে বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। দুমাস হতে চললো ভাড়াটিয়ার দেখা নেই। স্বাভাবিক সময়ে কখনও বাড়ি এভাবে খালি থাকে না বলে জানান তিনি।

পাটুরিয়া ঘাটে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মো. গোলজার হোসেন বলেন, আমি ছোট-বড় পিকআপ এবং ট্রাক মিলে ৫০টির বেশি গাড়ি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ-রুট পার হতে দেখেছি। অনেক গাড়ি এখনও টিকিট কেটে নদী পার হওয়ার জন্য অপেক্ষায় আছে। করোনাভাইরাসের কারণে অনেকে ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

সারাদিন/২৭জুন/এএইচ