খবরদার, আমার ধর্ম ব্যবহার করবেন না: নুজহাত চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ণ, ১৫/১২/২০১৯

শহীদ বুদ্ধিজীবী ডা. আলীম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, যেই মানুষ আপনার কাছে রাজনীতির সাথে ধর্ম মিশিয়ে, মেলাতে আসবে, তাকে বলবেন, খবরদার, আমার ধর্ম ব্যবহার করবেন না। রাজনীতি অন্যভাবে করেন। এই মানুষগুলো ধর্মের কথা বলে আমাদের বাবাদের মেরেছে। আমাদের বাবারা কি মুসলমান ছিলেন না? আমরা কি প্রতি মুহূর্তে আল্লাহর কাছে সেই বিচার চাইছি না?’

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শনিবার বিকেলে জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে জাতীয় জাদুঘর আয়োজিত এক আলোচনা সভায় উপস্থিত স্কুল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি একথা বলেন।

ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, ধর্মকে মিশিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে এলে তাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। এই ধর্মের দোহাই দিয়েই একাত্তরে আমার বাবার মতো লাখ লাখ মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ধর্মের কথা বলে কেউ কোনো দিন কাউকে ঘৃণা করতে শেখাতে পারে না। ইসলাম ধর্মের মতো প্রতিটি ধর্ম মানবতাবাদের ধর্ম। এই ধর্মগুলো মানুষকে ভালোবাসার কথা বলে।

শিশু-কিশোরদের প্রতি ওই স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধীদের চিনে রাখার পরামর্শ দিয়ে নুজহাত চৌধুরী বলেন, শত্রু ও মিত্রকে চেনার জন্য আমাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। জানতে হবে কারা বাংলাদেশ চেয়েছিল, আর কারা চায়নি। আমাদের শত্রু-মিত্র চিনতে হবে।

মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদেরকে দেখার চেষ্টা করো মুক্তিযুদ্ধের পটভূমিতে। তোমাদের জায়গাটা খুঁজে নাও যে, তোমরা মুক্তিযুদ্ধের সাথে কীভাবে সম্পর্কিত।

বীর প্রতীক কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসেই পাকিস্তানিরা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছে। ১৪ ডিসেম্বর বেশি করে হত্যা করেছে, কিন্তু এটা ‘সিমবোলিক’। তারা ২৬ মার্চ থেকেই এই হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত হয়।

তিনি বলেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে তারা খুঁজে খুঁজে প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারদের হত্যা করেছে, গ্রামের সাংবাদিকদের হত্যা করেছে। মসজিদের ইমাম সাহেব, যারা তাদের পক্ষে ফতোয়া দিতে রাজি হননি তাদের হত্যা করেছে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের হত্যা করেছে। এরাও তো আমাদের বুদ্ধিজীবী।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক মো. রিয়াজ আহম্মদ।

সারাদিন/১৫/ডিসেম্বর/টিআর