হাইকোর্টের বিচারপতির ছেলেকে আইনজীবী করায় রিট শুনবে হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৩:৪৪ অপরাহ্ণ, ১৫/১২/২০১৯

পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়ে বিচারপতির ছেলেকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে গেজেট প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জের রিট শুনানি করবেন বলে সম্মত হয়েছেন হাইকোর্ট।

পর্যায়ক্রমে হাইকোর্টের চারটি পৃথক বেঞ্চ থেকে বিব্রত হওয়ার পর রোববার (১৫ ডিসেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি ইকবাল কবীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ সম্মতি দেন। এ সময় আদালত বলেন, মামলাটি শুনানির জন্য মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) কার্যতালিকায় আসবে।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান।

আইনজীবীরা জানান, রিট আবেদনটি নিয়ে আজ প্রথমে বিচারপতি মইনুল হোসেন চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে গেলে তারা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এরও আগে গত ১১ ডিসেম্বর ও ২৬ এবং ২১ নভেম্বর হাইকোর্টের তিনটি পৃথক বেঞ্চ রিট আবেদনটি শুনতে বিব্রতবোধ ও অপারগতা প্রকাশ করেন তিনটি বেঞ্চ। সর্বশেষ রোববার অপর একটি বেঞ্চে গেলে সেই কোর্ট বিব্রতবোধ করেন রিটের শুনানিতে।

এরপর পরই রিট আবেদনটি নিয়ে বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে যাওয়া হয়। হাইকোর্টের এই বেঞ্চ রিট আবেদনটি শুনতে সম্মত হন।

প্রসঙ্গত, গত ২১ নভেম্বর আইনজীবী অন্তর্ভুক্তির পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ হওয়ার পরও এক বিচারপতির ছেলেকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসেবে গেজেট প্রকাশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়। আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট করেন।

রিটে বলা হয়, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পরীক্ষায় কয়েকবার অংশ নিয়েও কৃতকার্য হতে পারেনি হাইকোর্টের বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকীর ছেলে মো. জুম্মান সিদ্দিকী। অথচ জুম্মান সিদ্দিকীকে সরাসরি হাইকোর্টের আইনজীবী হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে গত ৩১ অক্টোবর গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।

রিটে ওই গেজেট এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ বার কাউন্সিল অর্ডারের ২১ (১)(খ) ও ৩০ (৩) ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। জুম্মান সিদ্দিকীসহ বার কাউন্সিলের সংশ্লিষ্টদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

সারাদিন/১৫/ডিসেম্বর/টিআর