সাড়ে চার কোটি টাকার জন্য চীনা নাগরিক খুন!

জেষ্ঠ্য প্রতিবেদকজেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, ১৫/১২/২০১৯

চীনা নাগরিক গাউজিয়ান হুই রাজধানীর বনানী থেকে দীর্ঘদিন পাথর ব্যবসা করতেন। পাশাপাশি তিনি পদ্মা সেতু প্রকল্প এবং পায়রা বন্দর নির্মাণকাজেও বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশে থাকায় তার সঙ্গে অনেকের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এই সম্পর্কের জেরেই এক বাংলাদেশি তার সাড়ে চার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। আত্মসাতের তালিকায় আছেন আরও অনেকে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, এ টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই হুইকে হত্যা করে গুম করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সাড়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র।

গত বুধবার বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর ভবনের পাশ থেকে গাউজিয়ান হুইয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ভবনের পাশের ফাঁকা জায়গায় মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছিল তার মরদেহ।

৪৭ বছর বয়সী গাউজিয়ান হুই দশ তলা ওই ভবনের ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকতেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজে তার ময়নাতদন্ত শেষে লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে মনে করছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান সোহেল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘গাউজিয়ান হুইকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার বুকের বাম পাশে ক্ষত রয়েছে। গলায় আঙুলের ছাপ ও নখের দাগ পাওয়া গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থান থেঁতলে গেছে।’

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি সূত্র বলছে, যাকে হত্যা করা হয়েছে তিনি অনেক বড়মানের মানুষ। পদ্মা সেতুসহ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ড আমাদের দেশের জন্য একটি থ্রেট। তাই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবারের বক্তব্য শোনা হয়েছে। এছাড়া নিহতের চীনা ব্যবসায়ী বন্ধু সিসির বক্তব্য নেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, গাউজিয়ানকে মাটিতে পুঁতে রাখার বিষয়টি ভবনে লাগানো সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েনি। পুলিশ বলছে ঘটনার সময় ক্যামেরা অকার্যকর ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকারীরা সিসিক্যামেরা বন্ধ করে রেখেছিল। তদন্তে এ বিষয়টিও আমলে রাখা হয়েছে।

গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) উপ-কমিশনার মশিউর রহমান বলেন, গাউজিয়ান হুই মূলত পাথর ব্যবসায়ী। পায়রা বন্দর ও পদ্মা সেতু নির্মাণ কাজে বেশ বিনিয়োগ রয়েছে তার। এসব ব্যবসায় বাংলাদেশি ছাড়াও চীনা নাগরিকরাও অংশীদার হিসেবে আছেন।

তাদের মধ্যে একজন চীনা নারীকে ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশি এক ব্যক্তি তার সাড়ে ৫ লাখ মার্কিন ডলার (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী চার কোটি ৬৭ লাখ টাকা) আত্মসাৎ করেছে। আরও অনেকের কাছে তিনি ডলার পাবেন।

বাংলাদেশে কিছু ব্যক্তি তার টাকা ‘মেরে দিয়েছেন’ এবং আরও কিছু টাকা ‘মারার চেষ্টা করছেন’ বলে জানান তিনি।

সারাদিন/১৫/ডিসেম্বর/টিআর