দুই মাসের মধ্যে করোনার প্রকোপ কমতে পারে: ড. বিজন

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০২ অপরাহ্ণ, ১৫/০৬/২০২০

করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের র‌্যাপিড ডট ব্লট কিট তৈরি করে দেশে আলোচনায় আশা ড. বিজন কুমার শীল বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে করোনার প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমে আসবে।

সোমবার (১৫ জুন) একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা জানান।

বিজন কুমার শীল বলেন, আমার মনে হয়, আমরা ইতোমধ্যে করোনার পিক টাইমে চলে এসেছি কিংবা কাছাকাছি এসেছি। আমার যেটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, আপনারা যে পরিমাণ আক্রান্ত দেখেছেন, তার চেয়ে অধিক মানুষ কিন্তু (করোনা থেকে) সেরে উঠেছে এবং তারা জানেন না। তাদের কোনো আইডিয়াই নেই। হয়তো তাদের একটু গা ব্যথা করেছে, হালকা জ্বর হয়েছে, একটু কাঁশি হয়েছে বা একটু পেটে সমস্যা হয়েছে ইত্যাদি। কিন্তু তারা এখন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। যারা আক্রান্ত তাদের থেকে সেরে ওঠার সংখ্যা ১০ থেকে ২০ গুণ বেশি হবে। মনে করেন, সুন্দরবন কিন্তু বড় বড় ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি প্রায় ৫০ ভাগ কমিয়ে দিতে পারে। ঠিক একইভাবে যাদের মধ্যে অ্যান্টিবডি (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) এসে গেছে, তারা কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবকে বন্ধ করে দিতে পারে। কারণ তাদের ভেতরে ভাইরাস গ্রো করতে (টিকতে বা বেড়ে উঠতে) পারবে না। ভাইরাস যখনই গ্রো করতে না পারবে, তখন ভাইরাসের পরিমাণ কমে আসবে। যখনই কমে আসবে, তখনই মানুষ আর আক্রান্ত হবে না। এটা দ্রুত কমে যাবে। কারণ, ঢাকা শহরেই অনেক মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি চলে এসেছে, তারা এই ভাইরাসকে তৈরি হতে আর সাহায্য করবে না। সঙ্গত কারণেই তখন ভাইরাসের প্রকোপ কমে যাবে এবং আমরা সবাই তখন এর থেকে পরিত্রাণ।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। করোনা যেতে বাধ্য। এসব ইনফেকশন থাকে না। কারণ যেসব ইনফেকশন প্যানডামিক (মহামারি) হয়, সেগুলো একটা সময় পৃথিবী থেকেই চলে যায়। এরা থাকে না। আমার মনে হয়, আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরে করোনার প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমে আসবে। গ্রামাঞ্চলে হয়তো এটা কিছু কিছু থাকতেও পারে, যদি হোস্ট (আক্রান্ত এবং অ্যান্টিবডি জন্মায়নি এমন ব্যক্তি) থাকে। যেমন ধরেন ডেঙ্গু। ডেঙ্গু থাকে, কারণ হলো মশার মাঝে ডেঙ্গু থাকতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাসের এরকম কোনো ইন্টারমিডিয়েট হোস্ট নেই, যেখানে এটা থাকতে পারে।

সুতরাং সে এসেছে, আবার চলে যাবে। একেবারে চিরতরে বিদায় নেবে। একটু হয়তো সময় লাগবে। আমাদের বর্তমান যে পরিস্থিতি, তাতে খুব শিগগির আমরা এ থেকে মুক্তি পাবো। কারণ অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে, তারা অ্যান্টিবডি তৈরি করে ফেলেছেন শরীরে। অধিকাংশ মানুষের মাঝে যখন হার্ড ইমিউনিটি তৈরি হবে, তখন ভাইরাসটির পক্ষে টিকে থাকা সম্ভব হবে না। তখন এমনি চলে চলে যাবে।

সারাদিন/১৫জুন/এএইচ