নারায়ণগঞ্জ থেকে নিখোঁজ শিশু

সাকিকে ফিরে পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তার বাবা-মা

বিশেষ প্রতিনিধিবিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ, ১৮/১১/২০১৯

নারায়ণগঞ্জে শহরের দেওভোগ এলাকা থেকে নিখোঁজ দেড় বছরের শিশু সাদমান সাকিকে উদ্ধারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান তার বাবা ও মা। গত প্রায় ২ বছর হতে চললো, সাকিকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায় নি। তবে নিখোঁজ সাদমান সাকির বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপনের দাবি, তার সন্তান এখনও বেঁচে আছে।

শিশুটি উদ্ধারের জন্য একটি মামলা করলেও কয়েকবার তদন্ত হয়েছে। আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে মামলার চার্জশীট ও তদন্ত পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে জানান সাকির বাবা।

সাকির বাবার অভিযোগ, পুলিশ অপহরণকারীদের শনাক্ত করলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধের সরকার ক্ষমতায় থাকতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান নিখোঁজের ব্যাপারে প্রশাসন কোন ধরনের সহযোগিতা করছে না। যার কারণে নিখোঁজ সাদমান সাকির সন্ধান দিতে প্রশাসন সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

সৈয়দ ওমর খালেদ এপন আরো বলেন, দ্রুত নিখোঁজ সাদমান সাকিকে উদ্ধারের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করছি। নিশ্চয় অঅমার সন্তান আমার বুকে ফিরে আসবে।

তিনি বলেন, একটি দেড় বছরের শিশু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হতে পারে না। এটা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ব্যাপার। সাদমান সাকিকে অপহরণকারী অপরাধীরা চিহ্নিত হওয়ার পরেও তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি।

মা হাবিবা খালেদ লিপি বলেন, আমার সন্তানকে আমার কোলে ফিরিয়ে দেন। আমি আমার সন্তানকে ফিরে পেতে চাই।

প্রসঙ্গত, গত ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর দুপুর শহরের দেওভোগ কাঠের দোতলা এলাকায় নিজ বাড়ির গেটের সামনে থেকে নিঁখোজ হয় দেড় বছরের শিশু সাদমান সাকি। ঘটনার দিন রাতে সদর মডেল থানায় প্রথমে জিডি ও একদিন পর ৩ ডিসেম্বর এ ব্যাপারে অপহরণ মামলা করেন নিখোঁজ সাদমানের বাবা সৈয়দ ওমর খালেদ এপন।

সাকির বাবা এপন বলেন, ঘটনার প্রায় তিন মাস পর মামলাটি তদন্তের ভার দেয়া হয় পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন)। তদন্তকালীন সময়ে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপারসহ পুলিশ বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তারা সাদমান সাকি জীবিত আছে বলে দাবি করে উদ্ধারের আশ্বাস দেয়।

এপন আরো দাবি করে বলেন, ‘সেসময় পিবিআই আমাকে বলেছেন আপনি যাদেরকে সন্দেহ করছেন, তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’ পরে পিবিআই এই শিশু নিখোজ এর ব্যাপারে পরে কোনো কথায় বলেন নি।’

পরিবারের স্বজনদের অভিযোগ, তদন্ত চলাকালীন সময়ে পিবিআই’র তদন্ত কর্মকর্তা সাদমান সাকি জীবিত আছে এবং কারা অপরহরণ করেছে তাদেরকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে তাদেরকে জানান। পুলিশ সুপারের নিদের্শ পেলেই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে রহস্যজনক কারনে গত বছরে কাউকে না জানিয়ে পিবিআই মামলার তদন্ত অসম্পূর্ণ রেখেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাদমান সাকি অপহরণ হয়েছে সত্য। তবে অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিখোজের পরিবার সেই মামলাটি আবার শুরু করার জন্য আবারো পত্র দাখিল করেন। কিন্তু সেই তদন্ত ভার সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু সিআইডি এই মামলার তদন্ত কাজই শুরু করেননি।