গণপরিবহনে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি, ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:৪৯ অপরাহ্ণ, ০২/০৬/২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীতে স্থবির অর্থনীতিতে গতি আনতে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলে অনুমতি দিয়েছে সরকার। অনুমতি পাওয়ার পাশাপাশি বাসে অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে এই শর্তে ৬০ শতাংশ ভাড়া বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তবে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি পালন করতে দেখা যায়নি কোন পরিবহনকে। তবে এক্ষেত্রে বাসের আসন ফাঁকা রাখার যে নির্দেশনা ছিল সেটি পালন করতে দেখা গেছে।আবার অনেক জায়গায় ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডা করতে দেখা যায় অনেক যাত্রীকে।

এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি পালন হচ্ছে কিনা সেটি দেখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনও মনিটরিং চোখে পড়েনি। সকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এর ফলে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানানো হবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। প্রত্যেক ট্রিপের পর আসনগুলো জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে কি না তা দেখারও কেউ নেই।

সকালে সরেজমিনে সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে গণপরিবহনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার উদ্দেশ্যে বাসে যাত্রীদের উঠতে দেখা গেছে। হেলপাররা আগের মতো জোর করে টেনে টেনে যাত্রী তুলছেন। এসময় কোনও পরিবহনে জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। তবে পরিবহনগুলো বের হওয়ার আগেই জীবাণুমুক্ত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি পরিবহন শ্রমিকদের।

এদিকে বড় স্টপেজগুলোতে যাত্রীদের হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করতে দেখা গেলেও ছোট ছোট স্টপেজে এ ধরনের কোনো দৃশ্য চোখে পড়েনি। এছাড়া বসার আসনগুলোতে ময়লা দেখলে চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় সেগুলো জীবাণুমুক্ত করা হয়নি।

দুপুরে রাজধানীর পল্টন মোড়ে কন্ডাকটর ও যাত্রীদের মধ্যে ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। অসচেতনতার কারণে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে অনেকের আপত্তি না থাকলেও বর্ধিত ভাড়া অনেকেই এখনো মেনে নিতে পারেননি। এছাড়া লোকদেখানো হলেও কতদিন এ স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

সরেজমিনে সদরঘাট থেকে মিরপুরগামী বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে ওঠার সময়ই হাতে জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাসের মধ্যে কোনো স্যানিটাইজার ছিল না। এছাড়া যাত্রী ওঠানামার ক্ষেত্রে তিন ফুট শারীরিক দূরত্বও রক্ষা করা হয়নি।

বাসটির হেল্পার রাসেল বলেন, ‘গতকালই আমরা আমাদের সব বাস জীবাণুমুক্ত করেছি। এখনও হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাইনি। তাই সেটা নিয়ে বের হতে পারিনি। তবে যাত্রীদের আমরা ধীরে বাসে উঠাচ্ছি এবং নামাচ্ছি। তিনি নিশ্চিত করেন পাশাপাশি দুটি সিটে কাউকে বসতে দেওয়া হচ্ছে না।

শাহবাগ এলাকায়ও গণপরিবহন চলতে দেখা গেছে। তবে যাত্রী সংখ্যা কম। এই এলাকার পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষও খুব বেশি পরিবহনে উঠছে না। যাদের একান্ত প্রয়োজন তারাই গণপরিবহন ব্যবহার করছেন।

অন্যদিকে, পল্টন মোড়ে বিআরটিসির একটি বাসে ওঠার সময় যাত্রীদের জীবাণুনাশক স্প্রে করে দেওয়া হয়নি। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বাসে অর্ধেক সংখ্যক আসনে যাত্রী নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কারণে বাসভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে বিআরটিএ। কিন্তু বর্ধিত ভাড়ার তালিকা নেই কোনো বাসেই।

চালক-হেল্পাররা জানান, সরকার থেকে বাড়তি ভাড়ার কোনো তালিকা আসেনি তাদের কাছে। তাই তারা নিজের মতো হিসাব করে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন। যাত্রীদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দ্বিগুণ ভাড়া নেওয়ার অভিযোগও আসছে।

এ বিষয়ে সুপ্রভাত পরিবহনের যাত্রী আল হাসান বলেন, ‘আগে পল্টন মোড় থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার গেটে যেতাম ৩০ টাকায়। ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়লে তা ৪৮ টাকা হওয়ার কথা। কিন্তু আমার কাছ থেকে ৫৫ টাকা রাখা হয়েছে।’

যাত্রীর এ অভিযোগের বিষয়ে বাসের চালক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমরা তো মুখে মুখে হিসাব করছি। সরকার তো কোনো তালিকা দেয় নাই।’

সারাদিন/২জুন/এএইচ