স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাচল, সদরঘাটে উপচেপড়া মানুষের ভিড়!

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ৭:১৮ অপরাহ্ণ, ০১/০৬/২০২০

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে সোমবারও (১ জুন) যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে ৭৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে বিভিন্ন গন্তব্য স্থলে। আর ঘাটে ভিড়েছে অসংখ্য লঞ্চ। এসবগুলোতে উপচে পড়া মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এতে কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

হাতিয়া ও বেতুয়ার ১০ নম্বর পন্টুনে উপচেপড়া ভিড় হওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। এখান থেকে হাতিয়া ও বেতুয়ার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়ে।

দুপুরে সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বিকালের লঞ্চ ধরতে মানুষ দলে দলে টার্মিনালের দিকে হেঁটে চলেছে। তাদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব দূরে থাক করোনা আক্রান্ত হওয়া থেকে নিজেদের রক্ষা করতে কোনও বিধিই মানা হচ্ছে না। বেশিরভাগেরই মাস্ক থাকলেও সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় লঞ্চ কম হওয়ায় ভিড় বেশি বলেও বলছেন তারা।

সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টায় লঞ্চের সময় থাকলেও যাত্রী এসে হাজির হয়েছেন দুপুর ১২টায়। এ সময় কথা হয়, আলম নামের এক যাত্রীর সাথে। সে পরিবার নিয়ে যাত্রা করবেন। পরিবারের সকলেই মাস্ক পরে আছেন। কিন্তু একটু পর পর সেটি খুলে হাতে রাখছেন। তিনি বলেন, লঞ্চ সব ছাড়বে না শুনে আগেভাগে এসেছি। পরিবার নিয়ে যাত্রা করবো বলে এসে এখন দেখি ভিড়ে পা ফেলার জায়গা নাই। করোনার মধ্যে নিয়ম না মেনে এই ভিড়ে থাকা কতটা নিরাপদ প্রশ্নে তিনি বলেন, উপায় নাই। এর মধ্যে কিসের নিয়ম মানতে বলেন?

এর ঠিক আধা ঘণ্টা আগে ৫টার লঞ্চে যাত্রা করবেন সোলায়মান। দূরে একা অস্বস্তি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনি বলেন, এই ভিড় দেখে ভয় লাগছে। কিন্তু দেশে যেতেই হবে। একটু সাইডে দাঁড়িয়ে আছি কিন্তু এই পন্টুনে এতো মানুষ, আলাদা থাকার কোনও সুযোগই নেই। কর্তৃপক্ষের কোনও দিক-নির্দেশনা আমি গত দুই ঘণ্টায় দেখিনি। মানুষজন সবাই নিজে থেকে সব মানবে এমন ভাবার কোনও কারণ নেই।

এদিকে ১০ নম্বর পন্টুনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার সুযোগ নেই উল্লেখ করে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের যুগ্মপরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, শুধু ১০ নম্বর পন্টুনে যাত্রীদের ভিড় আছে। এখান থেকে হাতিয়া-বেতুয়ার লঞ্চ ছাড়ে। আজ এই দুটো লঞ্চ ৫টা ও সাড়ে ৫টায় ছাড়ার কথা। যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। বাকি পন্টুনগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়েও কম যাত্রী আছে।

সারাদিন/১জুন/টিআর