সব অফিস খুলেছে, তবে আতঙ্কিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, ৩১/০৫/২০২০

মহামারী করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ ঠেকাতে টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে রোববার খুলেছে সরকারী ও বেসরকারী অফিস গুলো। এতে আতঙ্কিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। গত ২৬ মার্চ থেকে চলা সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়িয়ে ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নতুন রোগীর পাশাপাশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা যখন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে সেই পরিস্থিতিতে খুলে দেওয়া হয়েছে অফিস। এদিনই ট্রেন ও লঞ্চ শুরু হয়েছে। আর সোমবার থেকে দূরপাল্লার বাস-মিনিবাস চলাচলও শুরু হচ্ছে।

এই সময় স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ থেকে জারিকৃত ১৩ দফা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণের পাশাপাশি সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরে অফিসে আসতে বলা হয়েছে। তবে বয়স্ক, অসুস্থ ও সন্তান সম্ভবাদের এ সময় অফিসে আসা মানা করা হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কথা বলা হলেও প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে রোববার থেকে যারা অফিস করবেন তাদের অনেকের মধ্যেই প্রাণঘাতী এই ভাইরাসে সংক্রমণের আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, লিফটে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখা, দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়ানোর বিষয়ে আরও আগেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। এখন আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে এসব দেখা হবে। কোভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী পাস ইস্যু করা বন্ধ থাকায় ভিড় কিছুটা কম হবে বলেই মনে করছেন তিনি।

সচিবালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার রাজীব ঘোষ জানান, যারা পায়ে হেঁটে সচিবালয়ে প্রবেশ করবেন সচিবালয় ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করবেন।

সচিবালয়ের দুটি গেইট দিয়ে যারা গাড়ি নিয়ে ঢুকবেন তাদের কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে, সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনও কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। তবে এটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে, একটা ব্যবস্থা হতে পারে।”

সচিবালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাদে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত অন্য কাউকে সচিবালয়ে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সচিব, তাদের একান্ত সচিব ছাড়াও বেশ কয়েকজন অতিরিক্ত সচিবের কক্ষে ওয়াশরুমের ব্যবস্থা আছে। এর বাইরে অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কমন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়।

সারাদিন/৩১মে/টিআর