আবারও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভ

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৯:১০ পূর্বাহ্ণ, ৩১/০৫/২০২০

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের পর বেসরকারি হাসপাতালগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও চিকিৎসক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়াও করোনা টেস্টে বাড়তি ফি নেওয়া, রোগী ভর্তি না করানো, করোনা রোগীদের নিয়ে দায়সারাসহ অভিযোগের শেষ নেই বেসরকারি হাসপাতালগুলো প্রতি। কয়েকটি জায়গায় শুধু রিসেপশনিস্ট আর নার্সদের দেখা মিলছে এমন প্রমাণও আছে।

এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের বেসরকারি হাসপাতালে উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন । তিনি বলেন, ধানমন্ডিতে একটি হাসপাতাল কর্নার পরীক্ষার জন্য সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে, আবার যে কোন মানুষ যখন পরীক্ষা করতে যাচ্ছে সেখানে তারা চার হাজার টাকা করে নিচ্ছে। সরকারি একজন এমপির মালিকানাধীন ওই হাসপাতালটির নাম উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (৩০ মে) দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। জানা যায়, তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক।

তিনি বলেন, যদি তারা রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয় তাহলে সরকার যে টাকা দেওয়া হচ্ছে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। সরকার বিনামূল্যে করোনা পরীক্ষার জন্য যে মহান উদ্যোগ নিয়েছিল, সে উদ্যোগ সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার ব্যাপারে অনেকেই প্রভাব খাটিয়ে যত্রতত্র পরীক্ষা করছে। মূলত যারা ভুক্তভোগী তাদের উপসর্গ রয়েছে তারা পরীক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না। এ অবস্থা বন্ধ করা দরকার। শুধু যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের পরীক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা দেন।

যারা একটু জ্বর হলেই হাসপাতালে ছুটে যান তাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে করোনা চিকিৎসা হচ্ছে মূলত বাড়িতে সামান্য জ্বর হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই।

এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বিদায় স্বাস্থ্য সচিব আসাদুল ইসলাম, আইইডিসিআর-এর পরিচালক পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, করোনা মোকাবেলায় কারিগরি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ, ডা. মাহমুদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং ইউজিসির অধ্যাপক এবিএম ডা. আব্দুল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ডা. আহমেদ আল কায়কাউস এবং প্রধানমন্ত্রীর সচিব হোফাজ্জেল হোসেনসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সারাদিন/৩১মে/ আরটিএস