যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বিজয়ে হ্যাটট্রিক করেছেন টিউলিপ

নিউজ ডেস্কনিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ১৩/১২/২০১৯

দুইবারের মত এবারও ব্রিটেনের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। লন্ডনের একই আসন থেকে তিনি তৃতীয় বারের মত প্রার্থী ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিট্রেনে যে পাঁচ ছয়টি আসনের জয় পরাজয় নিয়ে ভোটার ও ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমের উন্মুখ দৃষ্টি তার একটি ছিল টিউলিপের হ্যামপস্টেড ও কিলবার্ন এর নির্বাচন নিয়ে। লন্ডনের আসনগুলোর মধ্যে এবারও সেখানেই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই হবে। নব্বইয়ের দশক থেকে এই আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে।

১২ ডিসেম্বরের নির্বাচনের প্রাধান্যের কেন্দ্রে রয়েছিল ব্রেক্সিট ইস্যু। দুই দফায় আইন প্রণেতা হওয়ার পর ব্রিটেনের নানা রাজনৈতিক ইস্যুতে পার্লামেন্টের ভিতরে বাইরে রীতিমত ঝড় তুলতে সক্ষম হন টিউলিপ। সাড়ে চার বছরের কম সময় দায়িত্ব পালন করেই তিনি ব্রিটেনের রাজনীতি ও সংবাদ মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে উঠে আসেন।

কোনো দল কিংবা প্রার্থীর চেয়ে ব্রেক্সিট প্রশ্নে ভোটারদের অবস্থানই ফল নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর বোন শেখ রেহানার দ্বিতীয় সন্তান টিউলিপ তার ব্যক্তিগত ইমেজের কারণে আবারও জয়ী হয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলেন, নিজ আসনের পূর্ব ইউরোপীয় ও মুসলিম ভোটারদের সমর্থন টিউলিপের জয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। তাই তার এই জয়

১৯৯২ সাল থেকে অস্কারজয়ী ব‌রেণ্য অভি‌নেত্রী গ্ল্যান্ডা জ্যাকসন দীর্ঘ ২৩ বছর হ্যাম‌পস্টেড ও কিলবার্ন আসন থে‌কে লেবার পার্টির প্র‌তি‌নি‌ধিত্ব ক‌রেন। ২০১০ সা‌লের নির্বাচ‌নে তিনি মাত্র ৪২ ভো‌টে জয় পান। তার পর এই আসনে প্রার্থী হন টিউলিপ। ব্রি‌টে‌নের বিশ্ব‌বিদ্যাল‌য়ের অর্থনী‌তির অধ্যাপক ড. শ‌ফিক সি‌দ্দিক ও শেখ রেহানা দম্প‌তির তিন সন্তা‌নের ম‌ধ্যে টিউলিপ দ্বিতীয়। তার মা বাবার বি‌য়েও হ‌য়ে‌ছিল এই কিলবা‌র্নেই। ২০১৫ সা‌লে এ আসন থে‌কে প্রথমবার নির্বাচিত হন টিউলিপ। ওই নির্বাচ‌নে ২৩,৯৭৭ ভোট পান তি‌নি। ২০১৭ সা‌লের নির্বাচ‌নে তি‌নি ৩৪,৪৬৪ ভোট পে‌য়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বা‌চিত হন। লন্ড‌নে জন্ম নেওয়া টিউলিপ ১৬ বছর বয়‌সে লেবার পার্টির সদস্য হ‌য়ে যুক্ত হন ব্রি‌টিশ রাজনী‌তি‌তে। আইনপ্রণেতা হওয়ার আগে তিনি ক্যাম‌ডেনের কাউন্সিলর ছিলেন।

দুই দফায় আইনপ্রণেতা হওয়ার পর ব্রি‌টে‌নের নানা রাজ‌নৈ‌তিক ইস্যু‌তে পার্লামেন্টের ভেত‌রে-বাইরে‌ রীতিমত ঝড় তুল‌তে সক্ষম হন টিউলিপ। সা‌ড়ে চার বছ‌রের কম সময় দা‌য়িত্ব পালন করেই তি‌নি ব্রি‌টে‌নের রাজনী‌তি‌ ও সংবাদমাধ্য‌মে আলোচনার কেন্দ্র‌বিন্দু‌তে উঠে আসেন।

লেখক ও অধ্যাপক ড. রেনু লুৎফা বলেন, এলাকার ভোটাদের ভালোবাসার কারণে তার এই জয় হয়েছে। আর তার জনপ্রিয়তা অনেক।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ব্রিটেনে আমন্ত্রণ জানানোর বিরোধিতা করে টিউলিপ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পার্লামেন্টের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তা ছাড়া কিলবার্নে বিপুল সংখ্যক মুসলিম ও পূর্ব ইউরোপীয় ভোটার আজীবন রয়েছে তার পক্ষে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

সারাদিন/১৩ডিসেম্বর/টি