ভারতের আসামে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্কআন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ, ১৩/১২/২০১৯

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে কারফিউ উপেক্ষা করে আসামের গুয়াহাটিতে বিক্ষোভ করেছে হাজারো মানুষ। উত্তাল পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৩ জন।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এদিন রাজ্যের চারটি এলাকায় পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভের মুখে সেনা মোতায়েনের পাশাপাশি ১০ জেলায় ইন্টারনেট সেবা আরও ৪৮ ঘন্টা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল।

অন্যদিকে, ছাবুয়ায় বিজেপি বিধায়ক বিনোদ হাজারিকার বাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। তবে ওই ঘটনায় কারো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। ওই এলাকায় একটি সার্কেল অফিসেও আগুন দেয় বিক্ষোভকারীরা। এছাড়া, স্থানীয় বিজেপি নেতাদের অভিযোগ, ডিব্রুগড়ে রাষ্ট্রীয় সেবক সঙ্ঘের দপ্তরের বাইরে বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিয়েছে তারা।

এর আগে সোমবার লোকসভার পর বুধবার রাজ্যসভাতেও পাস হয়েছে ভারতের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। ওই বিলে কেন শুধু অ-মুসলিমদের (হিন্দু, শিখ, পার্সি, খ্রিস্টান, জৈন ও বৌদ্ধ) সুবিধা দেওয়া হলো, তা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলে আসছেন বিরোধীরা। তাদের অভিযোগ, মুসলিমদের সঙ্গে বিভাজনের রাজনীতি করার উদ্দেশ্যেই বিলটি আনা হয়েছে।

এই বিলের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার থেকে বিক্ষোভ করছে দেশে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো। বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে আসাম, মনিপুর ও ত্রিপুরা রাজ্যে। বিক্ষোভ ঠেকতে বুধবার আসামের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করা হয়েছে। ত্রিপুরায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত সেনা।

বৃহস্পতিবার কারফিউ ভেঙেই রাস্তায় নেমে এসেছে গৌহাটির সাধারণ মানুষ। তারা জ্বলন্ত কাঠ ফেলে রাস্তা অবরোধ করে। ডিব্রুগড়ে উগ্রপন্থি হিন্দু দল রাষ্ট্রীয় সেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) একটি কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছেবিক্ষোভকারীরা। আরএসএস কার্যালয়ের বাইরে বেশ কয়েকটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় বলে দাবি করেছে বিজেপি।

মঙ্গলবার ছাত্রদের নেতৃত্বে বহু মানুষ রাস্তায় মিছিল করতে থাকে। অনেক জায়গায় উলঙ্গ হয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছে তাদের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে একাধিক জায়গায় সেনা নজরদারি জোরদার করা হয়। আসামের রাজধানী গুয়াহাটিতে জারি করা হয় কারফিউ।

সেই সঙ্গে ১০ জেলায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় তাদের পূর্ব নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করে দিয়েছে। বিপর্যস্ত সড়ক ও রেল পরিষেবা। অবরোধের জেরে অন্তত ১০টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে একাধিক বিমানও।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই টুইটারে অসমবাসীর উদ্দেশে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অসমিয়া ভাষায় তিনি লেখেন, ‘সিএবি নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। কেউ আপনাদের অধিকার কাড়তে পারবে না।’

আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালও এ দিন শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানান সাধারণ মানুষের কাছে। কিন্তু নেতাদের এতসব অঅশ্বাসের পরও থামেনি বিক্ষোভ। বরং কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ।

সারাদিন/১২ ডিসেম্বর/এ