বিটিআরসিকে শেষ ১০০০ কোটি টাকা পরিশোধ করলো গ্রামীণফোন

নির্দারিধ সময় শেষ হওয়ার আগেই শেষ কিস্তির ১ হাজার কোটি টাকা বিটিআরসিতে জমা দিয়েছে দেশের শীর্ষ মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিরীক্ষা দাবির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার মধ্যে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বিতীয় ও শেষ কিস্তির এই টাকা জমা দিতে যাচ্ছে গ্রামীণফোন।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার (১৯ মে) বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) এক হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করেছে অপারেটরটি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর পৌনে তিনটায় বিটিআরসি চেয়ারম্যানের কাছে গ্রামীণফোন এই চেক হস্তান্তর করে। এই টাকা দেওয়ার মাধ্যমে বিটিআরসিতে মোট ২ হাজার কোটি টাকা দিলো গ্রামীণফোন।

এ উপলক্ষে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, বিটিআরসি রাষ্ট্রীয় স্বার্থে, দেশের স্বার্থে কাজ করে, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করে না। আর একটি কথা আমরা চাঁদাবাজ নই। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আইন সম্মত উপায়ে আমরা কাজ করি।

এসময় তিনি গ্রামীণফোনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জাতীয় এ ক্রান্তিকালে গ্রামীণফোন যে টাকাটা পরিশোধ করেছে, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই। সামনে আরও যে বিষয়গুলো রয়েছে, তা একসাথে বসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। ন্যায় সঙ্গত দাবি বিটিআরসি মেনে নেবে।

গ্রামীনফোনের সিইও ইয়াসির আজমান বলেন, একসাথে কাজ করলে অনেক সমস্যার সমাধান করা যায়। আমরা সেটা করেছি। ইতিমধ্যে পে অর্ডারের চেক আমরা হস্তান্তর করেছি। নির্দিষ্ট সময়ের আগে দিতে পেরেছি এজন্য আমরা খুশি। আমরা বিটিআরসি থেকে সব রকমের সহযোগিতা পাচ্ছি।

এসময় দেশের জন্য যে কাজ করছেন তা জানিয়ে, সিইও বলেন, শুরু থেকে এটুআই ও ডিজি হেলথ-এর সাথে গ্রামীণফোন কাজ করছে। এছাড়াও বিভিন্ন
বিভিন্ন হাসপাতালে পিপিই দেওয়া, এক লাখ লোককে দেড় হাজার করে টাকা দেওয়া, ‘ডাকছে আমার দেশ’ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো সহ বিভিন্ন কাজ গ্রামীণফোন করছে।

তিনি বলেন, ভালো কাজকে উৎসাহিত করতে হবে। ভালো কাজগুলোকে তুলে ধরতে হবে। এই মুহূর্তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ভয়েস কল ও ইন্টারনেটে আমরা যে সুযোগ দিয়েছি সেটাতে সবার উৎসাহিত হওয়া উচিৎ। এর ফলে প্রতিযোগিতা বিনষ্ট হবে না, আমাদের এটা আরও বেশি করে করা উচিৎ।

এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিটিআরসিতে প্রথম কিস্তির ১ হাজার কোটি টাকা জমা দিয়েছিল গ্রামীণফোন।

সারাদিন/১৯মে/ আরটিএস