ব্রিটেন নির্বাচন বৃহস্পতিবার, আলোচনায় বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ, ১১/১২/২০১৯

ব্রিটেনের নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক ঘন্টা পরে অনুষ্ঠিত হবে। ব্রেক্সিট ইস্যু এবারও প্রার্থীদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে। কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে গেছে। নাকি জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠন করতে হবে বিট্রেনকে, তা নিয়েও বিভিন্ন দলের চলছে হিসাব-নিকাশ।

নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ জরিপে দেখা গেছে, অনিশ্চয়তাই রয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা। জরিপে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ ও জেরোমি করবিনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা সব সময় ওঠানামা করছে।

ব্রেক্সিট নিয়ে তর্ক ও বিতর্কের মধ্যে এই নির্বাচনে বরাবরের মতো প্রার্থী হয়েছেন বাংলাদেশিরা। টিউলিপ সিদ্দিক, রুশনারা আলী, রুপা হকের মতো শক্তিশালী প্রার্থীর পাশাপাশি এবার নির্বাচনে আরও ছয় বাঙালি প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন।

তাদের মধ্যে লেবার দল থেকে সাতজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট দল থেকে একজন এবং কনজারভেটিভ পার্টি থেকে একজন প্রার্থী হয়েছেন। এই ৯ প্রার্থীর মধ্যে সাতজন নারী এবং দুইজন পুরুষ।

যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে দলের স্থানীয় সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার রীতি মেনেই এসব বাংলাদেশি দলের চূড়ান্ত টিকেট পেয়েছেন।

১. রুশনারা আলী, তিনি ২০১০ সালে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে প্রথম বাঙালি কোনো রাজনীতিবীদের অভিষেক হয়। আর বৃটেনের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পত্রিকা নিউ স্টেটসম্যান বলছে, ভবিষ্যতে রুশনারাই বিট্রেনে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে উজ্জ্বলতম দাবিদার।

২. টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক, বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বর্তমান সাংসদ তিনিও এবার নির্বাচনে লেবার পার্টি থেকে হ্যামস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন থেকে লড়ছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। পরপর দুইবার যুক্তরাজ্যেই এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

আসন্ন এই নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো প্রার্থী হয়েছেন টিউলিপ। আর এ কারণে টিউলিপের সামনে হ্যাটট্রিক জয়ের হাতছানি দিচ্ছে। লন্ডনের আসনগুলোর ম‌ধ্যে এবারও সেখানেই সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই হবে।

নির্বাচন নিয়ে সাংসদ টিউলিপ বলেছেন, যেখানে আমি বেড়ে উঠেছি, পার্লামেন্টে সেই আসনের প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। আমি হ্যাম্পস্টেড ও কিলবার্নে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের প্রতিনিধি নই, আমি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই আসনের মানুষের প্রতি‌নি‌ধি।

৩. রুম্পা হক, তিনি ভোটারদের পছন্দের তালিকায়ও এগিয়ে থাকা একজন। গত দুইবারের নির্বাচিত আরেক বাঙালি এমপি প্রার্থী হচ্ছেন ইলিং সেন্ট্রাল ও এক্টন আসনের প্রার্থী ড. রূপা হক।

২০১০ সালে লন্ডনের ইলিং কাউন্সিলের ডেপুটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। আর সাংসদ নির্বাচিত হন ২০১৫ এবং ২০১৭ সালের নির্বাচনে।

পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়ন পাওয়া রুপা হক জানান, গত দুইবারের মতো আসনটিকে ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ।

৪. আফসানা বেগম, তিনিও ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসের পপলার অ্যান্ড লাইম হাউস সংসদীয় আসনে সংসদ নির্বাচনে লেবার পার্টির প্রার্থী হয়ে লড়ছেন। ওই আসন লেবারের ঘাঁটি হিসেবে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

৫. নুরুল হক আলী, এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্কটল্যান্ডের অ্যাবারডিন নর্থ সংসদীয় এলাকার লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন আরেক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নুরুল হক আলী। প্রায় ২৭ বছর ধরে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। লন্ডনের নিউহাম এলাকার বারা হতে একজন লেবার কাউন্সিলর হিসেবে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত দায়ীত্ব পালন করেন।

নুরুল হক আলী বলেন, লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার আরেকটি গণভোটের আয়োজন করলে, আমি ইউরোপের থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে তার প্রচারণায় অংশ নিবে।

৬. মেরিনা মাসুমা আহমদ, তিনি যুক্তরাজ্যের মধ্যবর্তী নির্বাচনে লন্ডনের বেকেনহাম আসন থেকে লেবার পার্টির মনোনয়ন পেয়েছেন। পার্টির প্রভাবশালী সদস্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি এই আসনে এবারও নির্বাচন করার টিকিট লাভ করেছেন তিনি। এই আসনে বর্তমানে সাংসদ হিসেবে আছেন ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি।

নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু ব্রেক্সিট হলেও ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস, অপরাধ দমন, অর্থনীতি ও ইমিগ্রেশন ইস্যু নিয়ে প্রত্যেকটি দল মানুষের কাছে তাদের ইশতেহার নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছেন আলী আখলাকুল, বাবলিন মল্লিক, সাজু মিয়া, আনোয়ারা আলী।

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে এবারের সাধারণ নির্বাচনে সর্বমোট ৬৫০ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা হচ্ছে চার কোটি ৬০ লাখ। বিভিন্ন দলের মোট প্রার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ৩২২। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে যে কোনো রাজনৈতিক দলের এমপির সংখ্যা হতে হবে ৩২৬ জন।

এখন কোনো দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই কনজারভেটিভ ২৯৮, লেবার ২৪৩, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ৩৫, লিবডেম ২০, ডিইউপি ১০, স্বতন্ত্র ২৪ জনসহ আরও ২০ জন সাংসদ রয়েছেন।

সারাদিন/১১ডিসেম্বর/টিআর