আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড পরিদর্শনে সচিব, ল্যাবরেটরির মানে সন্তুষ্ট

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩:৫৫ অপরাহ্ণ, ১০/১২/২০১৯

আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড প্রজেক্টের আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরি ও বুল ষ্টেশন পরিদর্শন করে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ রইছউল আলম মন্ডল। তিনি বলেন, এডিএলের আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরির প্রতিটি স্তর ঘুরে ঘুরে এবং বায়োসেফটি লেভেল-২ মানের এই ল্যাবরেটরির আর্কিটেচারাল ডিজাইন, জীব নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিম্যান উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরের কার্যক্রম দেখলাম। যা অত্যন্ত সন্তোষজনক।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার ভাংনাহাটি এলাকায় অবস্থিত এই প্রজেক্টের আন্তর্জাতিক মানের কৃত্রিম প্রজনন ল্যাবরেটরি ও বুল ষ্টেশন পরিদর্শন করে এসব কথা বলেন তিনি।

এসময় আমেরিকান ডেইরী সম্পর্কে সামগ্রিক তথ্য উপস্থাপন করেন কৃষিবিদ, পরিচালক (এ.আই ল্যাব এন্ড ফিল্ড এ্যাডভাইজরী সার্ভিস) মোঃ কুতুব উদ্দীন তালুকদার। তিনি বলেন- আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড (এডিএল)- এর লক্ষ্য হচ্ছে, কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আমিষের যোগান বৃদ্ধি করা। দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়নে ২০১৫ সাল থেকে সরকারী নিবন্ধন নিয়ে মাঠ পর্যায়ে এডিএল কর্তৃক কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রম শুরু করা হয়। বর্তমানে প্রায় ২৫০০ টি ইউনিয়নে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা আগামী ২০২১ সালে মধ্যে ৪৫০০ ইউনিয়নে সম্প্রসারিত করা হবে।

তিনি বলেন-এডিএল থেকে উৎপাদিত গবাদিপশুর সিমেন বা বীজ সারাদেশে বিতরণের মাধ্যম খামারিদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়া হয়। এক্ষেত্রে, একজন এ.আই কর্মীর নুন্যতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এস.এস.সি। কর্মীদের অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে হাতে-কলমে যোগ্য প্রশিক্ষক দিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলা ও থানায় খামারিদের হাতের নাগালে সেবা প্রদানে যোগ্য করে তোলা হচ্ছে।

একটি ষাঁড় থেকে সিমেন সংগ্রহ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে যাচাই বাছাই ও মলিকুলার পর্যায়ের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পর্যন্ত কিভাবে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা রক্ষা করা হয়, তা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন
মোঃ রইছউল আলম মন্ডল বলেন, নিজ দেশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবরেটরি ভাবাই যায় না। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ২০৪১ সালের ভিশন অর্জন করতে হলে দেশে এ ধরনের আন্তর্জাতিক মানের কার্যক্রম খুবই প্রয়োজন ।

এরপর তিনি বুল ষ্টেশন এবং উন্নত পেডিগ্রি সম্পন্ন জেনোমিক টেস্টেড ও পেডিগ্রি নির্বাচিত বীজ উৎপাদনক্ষম ষাঁড়গুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন। সেখানে বিভিন্ন জাতের যেমন- ফ্রিজিয়ান, শাহীওয়াল, মীর কাদিম, রেড চিটাগাং, নর্থ-বেঙ্গল গ্রে, ব্রাহমা ও গীর জাতের ষাঁড়গুলোর কৌলিক বৈশিষ্ট্যের তথ্য এবং ফেনোটাইপিক মান সচক্ষে অবলোকন করেন। তিনি বুলের আরামদায়ক ব্যবস্থাপনা, শেড ডিজাইন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা সর্বপরি প্রাণির কল্যাণ নিশ্চিত কল্পে গৃহীত ব্যবস্থার প্রশংসা করেন।

এরপর এডিএল কর্তৃক পরিচালিত কৃত্রিম প্রজনন কর্মী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় সচিবকে জানানো হয়, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই ইতোমধ্যে প্রায় ২৫০০ জন বেকার যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে মাঠ পর্যায়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানের জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে । যা আগামী ২০২১ সালের মধ্যে ৪৫০০ ইউনিয়ন পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে।

এছাড়াও সচিব আমেরিকান ডেইরী লিমিটেডের মাদার ব্রিডিং হার্ড, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির মিল্কি পার্লার, বায়োগ্যাস প্লান্ট, সদ্য প্রসূত বাছুরের শেড, মেটার্নিটি শেড, সাইলেজ তৈরি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা, টিএমআর প্লান্ট, মিল্ক প্রসেসিং প্লান্ট, ডেইরী ল্যাবরেটরি ও ইটিপি প্লান্ট পরিদর্শন করেন।

তাৎক্ষনিক মিল্ক স্কানার যন্ত্র দিয়ে দুধের মান পরীক্ষা করেন। স্বাস্থ্য সম্মত, হাইজেনিক পদ্ধতিতে দোহনকৃত ও উন্নত মানের স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা ব্যবস্থা দেখে তিনি বলেন, ‘ আমেরিকান ডেইরী লিমিটেড একটি সুসজ্জিত ও ইন্টিগ্রেটেড খামার, যেখানে সকল প্রয়োজনীয় স্থাপনা ও মেশিনারিজ অত্যন্ত কারিগরি ও সুনিপন দক্ষ বিশেষজ্ঞ কর্তৃক স্থাপন করা হয়েছে। ডেইরী খামারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুকৌশল পদ্ধতি দেখে আমি খুশী হন।’

পরিদর্শন কালে তিনি বলেন, বজ্য ব্যবস্থাপনায় ইটিপি পরিচালনার কাজ বাংলাদেশে আর কোন ডেইরী খামারে আছে কিনা তা বোধগম্য নহে, অথচ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সকল প্রতিষ্ঠানের ইটিপি থাকা বাধ্যতামূলক।

এসময় তিনি জানতে চান- খামারের ময়লা ও গোবর মিশ্রিত দুষিত পানিকে ইটিপি দ্বারা পরিশোধিত করার পর কি করা হয়? এ বিষয়ে কুতুব উদ্দিন তালুকদার জানান- খামারের ময়লা ও গোবর মিশ্রিত দুষিত পানিকে ইটিপি দ্বারা পরিশোধিত করার পর সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থায় নিষ্কাশন করে ফডার চাষ বা ঘাস চাষের মাঠে নিয়ে সবুজ ঘাস উৎপাদনের কাজে সেচ দেয়া হয়।

দিপনব্যাপি পরিদর্শন শেষের দিকে এডিএল কর্তৃক বাস্তবায়িত মুড়রা মহিষের জার্ম প্লাজম, অস্ট্রেলিয়ান ব্লাক হেড ডোরপার ভেড়ার জার্মপ্লাজম, আওয়াসি ভেড়ার জার্মপ্লাজম ও বোয়ের ছাগলের খামারও পরিদর্শন করেন।

এসময় তার সঙ্গে ছিলেন এ্যনিমেল ব্রিডার ও সাবেক ভাইস চ্যালেন্সর (পবিপ্রবি), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) কৃষিবিদ মোঃ লুৎফর রহমান খান, সাভারের অফিসার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ওটিআই) প্রিন্সিপ্যাল
এস এমএ সামাদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন ও ঘাস উৎপাদন) একেএম আরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় গো প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের বায়ার অফিসার মোঃ সফিকুর রহমান।

আমেরিকান ডেইরীর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন উক্ত প্রতিষ্ঠানের সিইও ডাঃ এএস আলীম (ইমু), মোঃ কুতুব উদ্দিন তালুকদার, পরিচালক (এআই এন্ড ফিল্ড এ্যাডভাইজরী সার্ভিস), লে.কর্নেল গোলাম মাওলা (অবসরপ্রাপ্ত), ডাঃ মোঃ আসাদুজ্জামান, ভেটেরিনারি অফিসার, ডাঃ মোঃ আব্দুল মজিদ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল অফিসার,  মোঃ ফয়সাল, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সহ প্রমুখ।

সারাদিন/১০ ডিসেম্বর/আর