লাল-সবুজ পতাকা বিক্রি মাস জুড়ে

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ২:৫৮ অপরাহ্ণ, ১০/১২/২০১৯

আর ছয়দিন পরেই স্বাধীনতার বিজয় দিবস ৪৮ বছরে পূর্ণ হবে। আর এই উপলক্ষে লাল-সবুজের পতাকা বিক্রি হচ্ছে এই মাসে সবচেয়ে বেশি। আসলে সবুজ জমিনে রক্তলাল সূর্য দেখতেই ভালো লাগে সবারই। ফেরিওয়ালারা হরহামশায় শহরে ও গ্রামে যেখানে সেখানে পতাকা বিক্রি করেই চলছে। আর ছোট বাচ্চা হতে বৃদ্ধরা সবাই এই পতাকা কিনছে।

বিজয়ের আনন্দ সবাইকে শিহরিত করে তুলে প্রতিটি ক্ষণে। আর মনে করিয়ে দিতে জাতীয় পতাকা ছড়িয়ে দেওয়াটাই যেন সবারই কাজ হয়ে দাড়িয়েছে।

আর রাজধানীতে এই পতাকা বিক্রি বেশি চলছে বলে জানান বরগুনা জেলার আসাদুল হক নামের এক ফেরিওয়ালা। তিনি মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে পুরান ঢাকার সদরঘাটের টার্মিনালে ফেরি করতে করতে সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, বিজয়ের মাসে পতাকা বিক্রি করতে ভালো লাগে। এখানে অনেকে পতাকা নিয়ে গ্রামের বাড়ী যায় ও ঢাকায় আসে। এতে আমি দারুন খুশি।

আসাদুল হক বলেন, আমার উপার্জনও হচ্ছে অনেক ভালো। রাস্তায় কেউ লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে গেলেই মানুষ ধরে ধরে আমায় জিজ্ঞাসা করে, এটার দাম কত? এতে আমার সময় সময় গর্বে বুকটা ভরে যায়। আর এই মাসেই পতাকা বিক্রি ভালো হয়।

আরেক ফেরিওয়ালা মুন্তাহা ইয়াসমিন সারাদিন ডট নিউজকে জানান, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাস এলেই পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়েন নগরীর পথে-প্রান্তরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন। তার কাছে ২০, ৩০, ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ টাকা দামের পতাকা রয়েছে। তবে ছোট পতাকাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

সরকারী হিসাবে দেশের মানুষ ১৬ কোটির একটু বেশি। যা মানুষের আবেগ জড়িয়ে আছে এই পতাকায়। তার সঙ্গে জড়ানো ডিসেম্বরও। এটি বাঙালির বিজয়ের মাস। আর তাই ডিসেম্বর এলেই লাল-সবুজ পতাকা হাতে দেখা মেলে অসংখ্য শিশু-কিশোর পতাকা বিক্রেতার।

মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উত্তরা, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এই এলাকাগুলোতে ফেরিওয়ালাদের সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আর ফেরিওয়ালারা এসব জাতীয় পতাকা ছড়িয়ে দেয়।

বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার রাজধানীর উত্তরা এলাকায় কথা হয় ২০ বছরের এক তরুনের সাথে। তিনি সারাদিন ডট নিউজকে বলেন, বিজয়ের মাসে পতাকা বিক্রি করে যেমন আনন্দ পাই, তেমনি উপার্জনও হয় ভালো। রাস্তায় কেউ লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে গেলেই গর্বে বুকটা ভরে যায়।

ডিসেম্বর আসলেই পতাকা বেচতে বের হন।হেমায়েত জানান, ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও ডিসেম্বর মাস এলেই পতাকা হাতে বেরিয়ে পড়েন নগরীর পথে-প্রান্তরে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শহরের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন। তার কাছে ২০, ৩০, ৫০, ১০০, ২০০, ৩০০, ৪০০ ও ৫০০ টাকা দামের পতাকা রয়েছে। তবে ছোট পতাকাই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়।

প্রতিদিন প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ পতাকা বিক্রি হয় জানিয়ে এ তরুণ বলেন, মোহাম্মদপুর থেকে পতাকা কিনে বিক্রি করি। প্রতিদিন যা বিক্রি হয়, তা থেকে খরচ বাদে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। হেমায়েতের মতোই আরেক তরুণ সানজিদুল হক। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় পতাকা কাঁধে নিয়ে ফেরি করতে দেখা যায় তাকে।

সানজিদুল বলেন, ডিসেম্বর মাসে আমরা পাকিস্তানিদের হারিয়ে স্বাধীন হয়েছি। এজন্য এই মাস আসলেই মানুষের মনে অন্যরকম এক আবেগ কাজ করে। তাই ডিসেম্বর শুরু হলেই পতাকা বিক্রি করতে আসি।

মাসজুড়ে শহরের অলিগলিতে দেখা মেলে পতাকা বিক্রেতাদের। রাজধানীর বনানী চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় করিমুল বলেন, সবাই অনেকেই পতাকা কিনেন, আবার কেউ কেউ তাড়িয়েও দেন। অনেকসময় গাড়ির চালকরাও পতাকা কিনেন।

জাফরিনের কাছ থেকে পতাকা কিনেছেন আবুল খায়ের। তিনি বলেন, বিজয়ের মাস আসলেই পতাকা কিনে গাড়ির সামনে রাখি। এতে বেশ ভালো লাগে। তাছাড়া এ ধরনের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছ থেকে পতাকা কিনলে তাদেরও কিছুটা লাভ হয়।

প্রাইভেটকার চালক সাইফুল ইসলাম বলেন, লাল-সবুজের পতাকা সারাবিশ্বে বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। সেই অনুভূতি থেকেই বিজয়ের মাস আসলেই পতাকা কিনে গাড়িতে লাগিয়ে রাখি।

শুধু ঢাকাই নয়, ডিসেম্বর আসলে গ্রাম থেকে শহরে চলে আসেন অসংখ্য তরুণ-যুবক। বিক্রি করেন বাঙালির আবেগমাখা পতাকা। আবার মাস শেষ হতেই ফিরে যান আপন গ্রামে।

সারাদিন/১০ডিসেম্বর/