ময়মনসিংহ হানাদার মুক্ত হয় আজ

ময়মনসিংহ সংবাদদাতাময়মনসিংহ সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১২:১২ অপরাহ্ণ, ১০/১২/২০১৯

আজ মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) । এই দিনে ময়মনসিংহ পাক হানাদার মুক্ত হয়েছিল । ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই দিনে মুক্তিযোদ্ধা সহ হাজার হাজার মানুষ আনন্দে ফেটে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধারা শহরতলীর শম্ভুগঞ্জ থেকে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হয়ে দলে দলে সার্কিট হাউজ মাঠে জমায়েত হতে থাকে। আর তারা বলে, আমরা মুক্ত। তখন অবরুদ্ধ শহরবাসী এ খবর পেয়ে আনন্দ উল্লাসে রাস্তায় নেমে আসে।

আসাদুল হক নামের এক মুক্তিযোদ্ধার ছেলে বলেন, আমি ছিলাম ছোট। তবে সেই সময়ে এই দিনে আমরা বিজয় উল্লাস করেছি। আবার স্বজন হারানোর বেদনা সব মিলিয়ে দিনটি অত্যন্ত খারাপ ছিল। তবে সব দিক বিবেচনায় দিনটি ছিল অত্যন্ত খুশির, আনন্দের ও মুক্তির দিন।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চ ভাষণের পর থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত ময়মনসিংহকে দখলমুক্ত রেখে ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা। ২৩ এপ্রিল ১৯৭১ সালে ময়মনসিংহের পতন ঘটলে মুক্তিযোদ্ধারা শহর ছেড়ে সীমান্তের ওপারে চলে যায়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি ভবনে স্থাপন করা হয় পাক হানাদার বাহিনীর বিগ্রেড হেড কোয়ার্টার। হানাদারদের সহযোগী হিসাবে গড়ে তোলা হয় আলবদর আল সামস, রাজাকার বাহিনী। জেলা পরিষদ ডাক বাংলোটির শান্তি ভবন নাম দিয়ে টর্চার সেল ও কিলিং সেন্টার গড়ে তোলে। ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে গড়ে তোলে আরো ২টি আস্তানা।

এছাড়াও অবাঙ্গালী বিহারিরা শহরের ছোট বাজারে গড়ে তোলে কিলিং জোন। ৭১ এ পাক সেনা আর রাজাকার, আল বদররা এসব আস্তানায় বাঙ্গালী নিধনে মেতে উঠেছিল। প্রতিদিনের সেই নৃশংসতার নিদর্শন দেখা যেত ব্রহ্মপুত্রের চরে। মুক্তাগাছা, গৌরীপুর ও নান্দাইলে এই নৃশংসতার মাত্রা ছিল ভয়াবহ। প্রায় ৭ মাস পাক সেনাদের দখলে থাকার পর নভেম্বরের শেষের দিকে এক একদিন থেকে মুক্ত হতে থাকে ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলা।

ডিসেম্বরের ১ম সপ্তাহে নেত্রকোনা থেকে একটি গ্রুপ অগ্রসর হয় ময়মনসিংহের দিকে। একই সময় হালুয়াঘাট, ফুলপুর হয়ে মিত্র বাহিনীর সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের আরও একটি দল অগ্রসর হয় শহর অভিমুখে। ৯ই ডিসেম্বর রাতে ২টি দল অবস্থান নেয় ব্রহ্মপুত্রের ওপারে শম্ভুগঞ্জে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান টের পেয়ে শহরে কারফিউ জারি করে হানাদাররা।

ছোট বাজার জিকেএমসি সাহা রোডে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কার্যালয়ে একদিনে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহ মুক্ত দিবস পালনের আনুষ্ঠানিক সূচনা শুরু হয়।

অন্যদিকে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও এদিনটি উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসন ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আয়োজনে সাতদিন ব্যাপী বিভিন কর্মসূচী পালন করা হবে বলে জানা গেছে।

সারাদিন/১০ ডিসেম্বর/টিআর