ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ উপজেলার ৮ গ্রাম লকডাউন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতাব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা
প্রকাশিত: ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ, ১৯/০৪/২০২০

করোনাভাইরাসের প্রভাব রুখতে চলমান লকডাউনের মধ্যেই পূর্বঘোষণা ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বেড়তলা গ্রামে মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজার ঘটনায় জেলার তিন উপজেলার আটটি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গ্রামগুলোতে মাইকিং করে এসব গ্রামের বাসিন্দাদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন পালনের নির্দেশনা জানিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রামগুলো হলো আশুগঞ্জ উপজেলার খড়িয়ালা, বৈগইর, মৈশাইর, সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শান্তিনগর, সীতাহরণ, বড়ইবাড়ি ও বেড়তলা এবং সদর উপজেলার মালিহাতা গ্রাম। এসব গ্রামের কেউ আগামী ১৪ দিন বাড়ি থেকে বের হলেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (সরাইল সার্কেল) মাসুদ রানা জানান, প্রশাসনের নির্দেশে গ্রামের বাসিন্দাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে আটটি গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক পুলিশের টহল থাকবে। এসব গ্রামের কাউকে বের হতে দেওয়া হবে না। দোকানপাট বন্ধ থাকবে। যেকোনো প্রয়োজনে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা ব্যবস্থা নেবেন।

শনিবার সকাল ১০টায় সরাইলের জামিয়া রহমানিয়া বেড়তলা মাদ্রাসায় এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে মহামারি করোনাভাইরাস থেকে পরিত্রাণের পাশাপাশি মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এদিকে দেশে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মানার কথা থাকলেও বড় ধরনের জমায়েত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। গত শুক্রবার বিকেল পৌনে ৬টায় জেলা শহরের মার্কাসপাড়ায় নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রখ্যাত আলেম জুবায়ের আহমদ আনসারী। জেলার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে তাঁর বাড়ি।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ১১ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। জেলায় এ পর্যন্ত দুজন এ ভাইরাসে মারা গেছেন। রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১৬ জন।

Nagad

সারাদিন/১৯এপ্রিল/টিআর