প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক প্যাকেজ মূলত শুভঙ্করের ফাঁকি: ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৭:৫৪ অপরাহ্ণ, ১৭/০৪/২০২০

ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজটি কলেবরে বড় হলেও এটি মূলত একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে প্রণোদনা বলা হলেও মূলত অধিকাংশই ব্যাংকনির্ভর ঋণ-প্যাকেজ। যা বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী মহলকে দেওয়া হবে ব্যাংক- গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। এতে সরকারের প্রণোদনা নিতান্তই অপ্রতুল।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিগত ৪ এপ্রিল বিএনপি করোনা জনিত প্রভাব মোকাবিলায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার ইকোনমিক প্যাকেজ ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রস্তাবিত সে প্যাকেজের ভেতরে না ঢুকে খুবই কটূ ভাষায় বিএনপি মহাসচিবকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে প্যাকেজটিকে ‘কল্পনা-বিলাস’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, অথচ পরদিনই প্রধানমন্ত্রীর ৭২ হাজার ৫শ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা এবং পহেলা বৈশাখের ভাষণে সর্বমোট ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজ ঘোষণা প্রমাণ করে যে বিএনপি ঘোষিত প্যাকেজটি ছিল বাস্তবভিত্তিক।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ৯৫ হাজার ৬১৯ কোটি টাকার অর্থনৈতিক প্যাকেজটি কলেবরে বড় হলেও এটি মূলত একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে প্রণোদনা বলা হলেও মূলত অধিকাংশই ব্যাংকনির্ভর ঋণ-প্যাকেজ। যা বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী মহলকে দেওয়া হবে ব্যাংক- গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে। এতে সরকারের প্রণোদনা নিতান্তই অপ্রতুল।

‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতেই ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ পাচ্ছে কেবল সরকারি ক্যাডার এবং সরকারি আশীর্বাদপুষ্ট কিছু নব্য ধনী ও সীমিত সংখ্যক ব্যবসায়ী। এতে ভিন্নমতাবলম্বিদের কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।’

Nagad

তিনি দাবি করেন বলেন, সরকারের উচিত হবে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী এসব খাতে প্রস্তাবিত ঋণ-প্যাকেজের জন্য সরকারি তহবিল থেকে বিশেষ অর্থ বরাদ্দ করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, টিসিবির আওতায় চাল, ডাল বিক্রি এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন লেভেলে চলমান ভিজিডি/ভিজিএফ প্রকল্পের আওতায় চাল বিতরণ শুরু হলে সারা দেশে চাল চুরির মহোৎসব শুরু হয়। অন্যদিকে ত্রাণ বিতরণে নজিরবিহীন দলীয়করণের কারণে ভিন্নমতাবলম্বি চরম দুস্থদের বেঁচে থাকার ন্যূনতম উপাদান চাল-ডাল থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা বলেছিলাম আসছে মৌসুমী ধান/চাল সংগ্রহ করে গুদামজাত করার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করতে। এতে এই দুঃসময়ে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাবে এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য খাদ্য ঘাটতি এড়ানো সম্ভব হবে। কিন্তু সরকার মাত্র ২ লাখ মেট্রিক টন ধান কেনার জন্য ৮শ ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এতে করে কৃষি ও কৃষকের প্রতি সরকারের সংবেদনশীলতার অভাবই প্রকৃষ্ট হয়ে উঠলো। কৃষি যন্ত্রপাতি বাবদ ২শ কোটি এবং কৃষি ভর্তুকি বাবদ ৯ হাজার ৫শ কোটি টাকা বরাদ্দ মূলত বাজেট বরাদ্দেরই পুনঃকথন। নতুন কোনো বরাদ্দ নয়।

সারাদিন/১৭এপ্রিল/টিআর