চুক্তিভিত্তিক কারখানাগুলো শ্রমিকদের বেতন দিতে কার্পণ্য!

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, ১৭/০৪/২০২০

উঠতি উদ্যোক্তা ও বড় কোনও কারখানার পাওয়া কাজের কিছু অংশ চুক্তির ভিত্তিতে (সাব কন্ট্রাক্ট) করে থাকে এসব কারখানা। এগুলোর সবগুলোই নিবন্ধন আছে কিনা বা থাকলেও কিভাবে হয় তা নিয়েও অনেক গার্মেন্টস মালিকের আছে সংশয়। তবে শ্রমিকদের তা জানা নেই।

গার্মেন্টস শিল্পে ৪৫ লাখেরও বেশি শ্রমিক কর্মরত। কিন্তু এর সবই গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সদস্য নয়। শ্রমিকরা বেতন পাওয়ার আশ্বাসে চাকরি করেন। আর বেতন আটকে গেলেই আত্মগোপনে যান এসবের মালিক। বেতনের দাবিতে পোশাক শ্রমিকের বিক্ষোভ মিছিলে সমালোচিত হয় পুরো তৈরি পোশাক খাত।

শ্রমিকরা কাজ করেছেন, বেতন তাদের দিতেই হবে। কিন্তু, বিজিএমইএ ও বিকেএমই’র সদস্য না হলে পুরো দায় তাদের ওপরে বর্তায় কিনা সে প্রশ্ন তুলেছেন এসব সংগঠনের নেতারা। এ দুই সংগঠনের নেতারা বলছেন, তারা এসব মালিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যদি খুঁজেই পাওয়া না যায় তাহলে এসব শ্রমিকের বেতনের কী হবে করোনাভাইরাসের এই ঝুঁকিপূর্ণ সময়ে এ প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

পোশাক কারখানা পালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৮৭ শতাংশের মতো শ্রমিক মার্চ মাসের বেতন পেয়েছেন। আর বিকেএমইএর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একইদিনে তার ৯০ শতাংশ শ্রমিককে মার্চ মাসের বেতন দিয়েছেন। এ দুটি সংগঠনভুক্ত বাকি কারখানাগুলোর শ্রমিকদের বেতন হয়ে যাওয়ার বিষয়েও আশ্বস্ত করেছেন দুই সংগঠনের নেতারা।

তবে তাদের এই ঘোষণায় আশ্বস্ত নন শ্রমিক নেতারা। এমনকি বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-র দেওয়া তথ্য নিয়েও প্রশ্ন আছে তাদের।

পোশাক শ্রমিকরা করোনার সময়ে রাস্তা আটকে বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকলে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে চায়। এসময় পোশাক শ্রমিকরা পুলিশের গাড়ির সামনে বসে পড়ে।

Nagad

এ প্রসঙ্গে সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশন সভাপতি নাজমা আক্তার বলেন, ৮৭ শতাংশ শ্রমিক বেতন পেলে আমাদের রাস্তায় নামতে হতো না। আমাদের শ্রমিক ভাই-বোনরা মার্চ মাসের বেতন এখন পর্যন্ত পায়নি। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কিছু নেই। তিনি বলেন, শ্রমিকদের কাজ মালিকদের ভালো লাগে, কিন্তু মাস শেষে বেতন দিতে ভালো লাগে না। মালিকরা শ্রমিকদের দায়িত্ব নিতে চাচ্ছেন না বলেই শ্রমিকরা আজ রাস্তায় নেমেছে।

চলতি সপ্তাহের শুরু থেকে বেতন না পেয়ে মিরপুরে ফ্যালকন গার্মেন্টস; দক্ষিণখানে রেদওয়ান, সিএনবি, স্যার ডেনিম, সারা ফ্যাশন, সুপার সাইন; রূপনগরে মনির ফ্যাশন; কমলাপুরে সর্দার ও বিন্নি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা বকেয়া বেতনে দাবিতে আন্দোলন করছেন।

দক্ষিণখানের রেদওয়ান গার্মেন্টের শ্রমিক আল আমিন জানান, তাদের তিন মাসের বকেয়া রয়েছে। গার্মেন্টের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হচ্ছে না। তাই তারা বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছেন।

বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘যেসব কারখানা বিজেএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য নয়, তাদেরকে আমরা কিছুই বলতে পারি না। তবে, সেখানকার শ্রমিকরা কোনও সমস্যায় পড়লে বা বেতন না পেলে তার দায় যে কোনওভাবে আমাদের ওপর চাপানো হয়।

এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বর্তমানে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই পরিস্থিতিতে যারা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সদস্য নন, তাদের খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফলে কিছু শ্রমিক এখনও বেতন পাচ্ছে না।

সারাদিন/১৭এপ্রিল/টিআর