‘চিকিৎসকের সুরক্ষার কথা চিন্তা করা দরকার’

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২:২৬ অপরাহ্ণ, ১৬/০৪/২০২০

দেশে করোনাভাইরাস বা কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দিন। শুধু তাই নয় আরও বেশ কয়েকজন চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত।
তবে করোনায় আক্রান্ত হওয়া চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা যুদ্ধে প্রথম সারির যোদ্ধা চিকিৎসকরা, তাদের বলা হয় ‘সুপার স্প্রেডার’। তাদের সুরক্ষা যদি ঠিকভাবে না দেওয়া যায় তাহলে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে দেশের মানুষকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না।

চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও আগে থেকে সঠিক সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার ছিল। এখনও যদি সেটা না করা যায়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে মানুষ চিকিৎসাই পাবে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, করোনাভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ স্বাস্থ্যকর্মী, তাদের জীবন রক্ষা করতে না পারলে অনেক লোকের প্রাণ যাবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর তথ্য গোপন, চিকিৎসকদের জন্য সঠিক সুরক্ষা পোশাক না থাকা এবং পরীক্ষার সুযোগ কম থাকাতে চিকিৎসকসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই চিকিৎসকদের দরকার পর্যাপ্ত প্রটেকশন ব্যবস্থা এবং সেটা ছাড়া রোগীকে দেখতে যাওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

করোনা পজিটিভ হলেও তথ্য গোপন করে গত ১৪ এপ্রিল রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন এক রোগী। তবে পরে সেটি স্বীকার করে তার স্বজনেরা। যদিও ততক্ষণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে সিসিইউতে নিয়ে যাওয়া হয়।

Nagad

একইসঙ্গে সারা দেশে এখনও চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যদের পিপিই সরবরাহ করা হয়নি, দেওয়া হয়নি সঠিক মাস্ক। ইতোমধ্যে ঢাকার ভেতরে একটি হাসপাতালে এবং ঢাকার বাইরে এন-৯৫ বলে যে মাস্ক দেওয়া হয়েছিল সেগুলো যথার্থ ছিল না বলে জানিয়েছে সেসব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশে ডক্টরস ফাউন্ডেশন (বিডিএফ)-এর তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ৬৫ জন চিকিৎসক করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। কোনও সমন্বয় নেই, সমন্বয় ছাড়া কাজ হচ্ছে বলেই আজ এ অবস্থা। তাই এ দুর্যোগের সঙ্গে যেসব মন্ত্রণালয় জড়িত তাদের সবাইকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসতে হবে। কোনও হাসপাতালের ট্রায়াজ নাই, কোনও ক্লিনিক্ল্যাল কোর কমিটি নাই, ক্লিনিক্যাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি নাই-এসবের জন্যই চিকিৎসকরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা সাংঘাতিকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। রোগী তথ্য গোপন করছে, কেউ পিপিই সাপ্লাই দিচ্ছে না, যেগুলো দেওয়া হচ্ছে তার মান ঠিক নেই—সব মিলিয়ে চিকিৎসকরা ভীষণ অনিরাপদ অবস্থায় আছেন বলেও জানান কেউ কেউ।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং হেলথ অ্যাক্টিভিস্ট ডা. জাহিদুর রহমান বলেন, সার্জিক্যাল মাস্কের নামে চিকিৎসকদের যা দেওয়া হচ্ছে সেগুলো কাপড়ের মাস্ক, এন-৯৫ বলে যেগুলো দেওয়া হচ্ছে সেগুলোও ভুয়া, যেগুলো চিকিৎসকদের দেওয়া হচ্ছে তাতে করোনাভাইরাস প্রতিরোধ করার জন্য কিছুই নেই।

তিনি বলেন, ঢাকার প্রধান হাসপাতালগুলোতে যেসব পিপিই এবং এন-৯৫ মাস্ক দেওয়া হয়েছে সেগুলোরই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে বোঝাই যাচ্ছে ঢাকার বাইরে যেসব হাসপাতাল রয়েছে, বিশেষ করে জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে থাকা হাসপাতালের চিকিৎসকদের অবস্থা আরও খারাপ।

সারাদিন/১৬এপ্রিল/টিআর