বেতন দেয়নি বিজিএমইএ’র তালিকার অর্ধেক কারখানা

বিশেষ প্রতিবেদকবিশেষ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১০:৪৩ পূর্বাহ্ণ, ১৬/০৪/২০২০

করোনাভাইরাসের ধাক্কা সামালে সরকার প্রণোদনার ঘোষণা দেয়। এরপরেও এ মাসের অর্ধেকটা চলে গেলেও শ্রমিকদের বেতন দেয়নি বিজিএমইএর তালিকার ৫০ ভাগ পোশাক কারখানাকে।

প্রতিশ্রুত সময়ের একদিন আগেও বেতন হাতে না পেয়ে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘লকডাউন’ ভেঙে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শ্রমিকরা। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আশ্বস্ত করতে দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেছেন বিজিএমইএ নেতারা।

বিজিএমইএর পাঠানো তথ্যে দেখা যায়, তাদের তালিকাভুক্ত দুই হাজার ২৭৪টি রপ্তানিমুখী কারখানার মধ্যে এক হাজার ১৮৬টি কারখানা বেতন পরিশোধ করেছে। এর অর্থ হচ্ছে এক হাজার ৮৮টি কারখানা এখনও শ্রমিকের হাতে বেতন দেয়নি। যারা বেতন পরিশোধ করেছে তাদের অধিকাংশই বড় বড় কারখানা। বেতন পরিশোধ করেছে ঢাকার ৩৭২টির মধ্যে ২০১টি কারখানা, গাজীপুরের ৮১৮ কারখানার মধ্যে ৪৩২টি, সাভার আশুলিয়ার ৪৯১টি কারখানার মধ্যে ২৪৩টি, নারায়ণগঞ্জের ২৬৯টির মধ্যে ১১৮টি, চট্টগ্রামের ৩২৪টির মধ্যে ১৫৬টি এবং অন্যান্য এলাকার ৪২টির মধ্যে ৩৬টি কারখানা।

বিজিএমইএর দাবি, মোট ২৪ লাখ ৭২ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ জন শ্রমিক বেতন পেয়েছেন, যা মোট শ্রমিকের ৭৮ শতাংশ। হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, বুধবার পর্যন্ত যেসব কারখানা বেতন দিয়েছে সেখানে প্রতিটিতে গড়ে ১৬০০ করে শ্রমিক রয়েছে। আর যারা এখনও বেতন দেয়নি সেখানে প্রতিটিতে গড়ে ৫০০ এর মতো শ্রমিক রয়েছে।

সাধারণত মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই আগের মাসের বেতন পরিশোধ করে থাকে কারখানাগুলো। তবে চলমান বিশেষ পরিস্থিতিতে সর্বত্র ছুটির প্রভাব থাকায় ১৬ এপ্রিলের মধ্যে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করা হবে বলে সরকারের কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মালিকরা।

সেই সময় শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগেও বেতনের দেখা পাননি কয়েক লাখ শ্রমিক। এর ফলে সৃষ্ট অসন্তোষের কারণে সাভার, গাজীপুর, ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন শ্রমিকরা। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে রক্ষায় মানুষে মানুষে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর মাঝেও সময়মতো বেতন না পেয়ে সম্মিলিত বিক্ষোভ দেখালেন শ্রমিকরা। তাদের ঘরে ফেরাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে পুলিশকে।

Nagad

এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক বলেন, “১৬ এপ্রিলের মধ্যেই ৮০ শতাংশ শ্রমিক তাদের বেতন পেয়ে যাবেন। তবে যারা বাকি থাকবেন তারা ২০ তারিখ বা তার কিছু দিন পরে বেতন পাবেন। এপ্রিল মাসের বেতন দিতে সরকার যে স্বল্প সুদের ঋণের ঘোষণা দিয়েছে সেটা পেতে ২০ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আমরা চেষ্টা করব সেই আবেদনের তারিখ যেন আরেকটু পেছানো যায়।”

সারাদিন/১৬এপ্রিল/টিআর