করোনা শেষ করেছে বিশ্ব অর্থনীতির ৩ শতাংশ

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:০৮ অপরাহ্ণ, ১৫/০৪/২০২০

বিশ্ব অর্থনীতিকে বিশ্বমন্দার দাড় প্রান্তে ছেড়ে দিয়েছে। মহামারী থেকে প্রাণ বাঁচাতে বিশ্ববাসী যে অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করেছে, তা শুষে নিচ্ছে অর্থনীতির প্রাণ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্কবার্তা দিয়েছে, করোনাভাইরাস সঙ্কট ২০২০ সালে বিশ্বের অর্থনীতিকে ৩ শতাংশ ছোট করে আনবে। ১৯৩০ এর দশকের মহামন্দার পর এমন সঙ্কট বিশ্ব আর দেখেনি। আর এই সঙ্কট যত দীর্ঘায়িত হবে, বিভিন্ন দেশের সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে তত কঠিন পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হবে।

চীন থেকে সংক্রমিত এক ভাইরাস বছরের শুরুতে বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়ে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ হুমকির মধ্যে ঠেলে দেওয়ার সঙ্গে অর্থনীতির জন্যও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যার ফলও ভোগ করতে হবে মানুষকেই।

ইতিমধ্যে গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে লাখ প্রাণের বিনাশ ঘটিয়েছে নতুন নভেল করোনাভাইরাস, আক্রান্ত করেছে প্রায় ২০ লাখ মানুষকে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, চীন ও জাপানের মতো বিশ্ব অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক দেশগুলো। সূত্র: আইএমএফ

মানুষের প্রাণ বাঁচানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অবরুদ্ধ অবস্থা তৈরি করেছে প্রায় সব দেশ; তার ফলে যোগাযোগ, কল-কারখানা বন্ধ হয়ে ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে দুনিয়ার অর্ধেক মানুষ। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেমে এসেছে স্থবিরতা।

আর এটাই বিশ্বকে আরেকটি মহামন্দার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা, যার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) আইএমএফের সতর্কবার্তা এল।

আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে বলা হয়েছে, “এটা এখন স্পষ্ট যে ১৯৩০ এর দশকের মহামন্দার পর সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দার সামনে দাঁড়িয়ে পৃথিবী। এটা এক দশক আগের অর্থনৈতিক সঙ্কটকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ বলছেন, এই সঙ্কটে বিশ্ব আগামী দুই বছরে ৯ ট্রিলিয়ন ডলার প্রবৃদ্ধি হারাবে, এই অঙ্ক জার্মানি ও জাপানের মতো দুই শিল্পোন্নত দেশের মোট জিডিপির পরিমাণের চেয়েও বেশি।

মহামারী ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও জাপানের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করেও আইএমএফ বলছে, তারপরও অর্থনীতির ভঙ্গুর দশা কোনো দেশই এড়াতে পারবে না।

কোভিড-১৯ মহামারীতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিপর্যস্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২০২০ সালে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ সঙ্কুচিত হয়ে পড়বে বলে আইএমএফের আশঙ্কা। দেশটিতে বেকারত্বের হার বেড়ে এক লাফে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা তাদের। যুক্তরাজ্যের চিত্রও ভিন্ন নয়।

এ্ই কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির মহামারীর আগের অবস্থায় ফিরতে দু্ই বছর লেগে যাবে বলে আইএমএফ মনে করছে। সংস্থাটি বলছে, ২০২১ সালে খানিকটা সামলে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ৪ দশমিক ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।

চীনের প্রবৃদ্ধির হার কমে ১ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে বলে আইএমএফের আভাস, যা ঘটলে তা হবে ১৯৭৬ সালের পর সর্বনিম্ন। অস্ট্রেলিয়াও ১৯৯১ সালের পর সবচেয়ে খারাপ দশায় পড়বে।

করোনাভাইরাস মহামারীর যদি কবর না হয়, তা যদি দীর্ঘায়িত হয় কিংবা ২০২১ সালে যদি ফের দেখা দেয়, তবে পৃথিবীকে আরও ভয়াবহ ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা আইএমএফের। তাতে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি আরও ৮ শতাংশ পয়েন্ট কমবে বলে শঙ্কিত তারা। আর তা গরিব দেশগুলোকে যে বড় বিপর্যয়ের সামনে দাঁড় করিয়ে দেবে, তা নিয়েও চিন্তায় আইএমএফ।

সংস্থাটি বলছে, তখন বিনিয়োগকারীরা ওই দেশগুলোকে ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করবে, ফলে দেশগুলোর দেনার ভার বাড়াবে, তাতে অনেক দেশের আয়বর্ধক কর্মসূচিতে অর্থায়ন কমে যাবে।

সারাদিন/১৫এপ্রিল/টিআর