প্রণোদনায় ব‍্যবসায় ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন ব্যবসায়ীরা

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫:১৭ অপরাহ্ণ, ১৪/০৪/২০২০

করোনাভাইরাসের ক্ষতি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার পাঁচটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে ব্যবসায়ীদেররা খুশি হয়েছেন। তারা ব‍্যবসায় ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে আশাবাদী।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি ও বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীরা যে আতঙ্কে ছিলেন, সেটা এখন অনেকটাই কেটে গেছে। কারণ, একেবারে ছোট, মাঝারি, বড় সব ব্যবসায়ী বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষজনও এই প্যাকেজ থেকে সুবিধা পাবেন।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত প্যাকেজে আমাদের সবারই মন ভালো। এই প্যাকেজে ব্যবসায়ীদের মনে শুধু আশার সঞ্চার হয়েছে এমন নয়, ব্যবসায়ীদের ঘুরে দাঁড়ানোরও সাহস জুগিয়েছে। ক্ষুদ্র, মাঝারি, রফতানিমুখী শিল্প ও বড় শিল্প উদ্যোক্তাদের দুশ্চিন্তা দূর করতে সহায়ক হবে এই প্যাকেজ।’

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান বলেন, এ মুহূর্তে দেশের দু’টি পুঁজিবাজারই বন্ধ আছে, প্রণোদনা প্যাকেজটি বাস্তবায়ন হলে পুঁজিবাজার খোলার পর বাজারে এই প্যাকেজের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) চেয়ারম্যান এস কে সৈয়দ আলী বলেন, আমরা কাঁচা পাট রফতানি করি। একশ’ বছরেরও বেশি সময় ধরে আমাদের এই ব্যবসা। নানা কারণে পাঁচবারেরও বেশি পাট রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আমরা ভয়াবহ ক্ষতির মধ্যে পড়ি।

চামড়া শিল্পের উদ্যোক্তারা কীভাবে ঋণ পাবে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহীন আহমেদ। তিনি বলেন, চামড়া খাতে বৃহৎ শিল্প আছে, চারশ’ কোটি টাকারও বেশি অনেকের বিনিয়োগ আছে। আবার ছোট, মাঝারি উদ্যোগও আছে। তবে মনে হচ্ছে, ব্যাংকের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক ভালো, কেবল তারাই সুবিধা পাবেন। বাকিদের হয়তো খুব বেশি উপকার হবে না। কারণ, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই জামানত দিতে পারবেন না।

Nagad

উল্লেখ্য, প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ৯ শতাংশ সুদে ৩০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা আছে। এর মধ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিক ৪.৫ শতাংশ ভর্তুকি এবং সরকার ৪.৫ শতাংশ ভতুর্কি দেবে। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পসহ মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সুবিধা প্রণয়ন করা হবে। ঋণের হার ৯ শতাংশ। প্রদত্ত ঋণের ৫ শতাংশ সুদ সরকার দেবে।


সারাদিন/১৪এপ্রিল/এএইচ