ঘরে বসেই বাংলা বর্ষবরণ পালন করছে জনগণ

তানভীর রায়হানতানভীর রায়হান
প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, ১৪/০৪/২০২০

বৈশাখের আয়োজন অনেক সুন্দরভাবে উদযাপন করে দেশবাসী। তবে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে ভিন্ন ভাবে উদযাপন করছে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ। ঘরে বসেই নর্ষবরণ করছে জনগণ। তবে এই দেশে প্রায় ১০ বছর আগে নগরীতে বৈশাখের আয়োজন বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি। কিন্তু এর শুরুটা সব সময়ই অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে আসা ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজনে।

করোনার কারণে সেটিও এবার বন্ধ রয়েছে। তবে সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য আগের আয়োজন থেকে বাছাই করে গান-কবিতাগুলো নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান সাজায় দেশের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ছায়ানট। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৭টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের সঙ্গে যুথবদ্ধভাবে বিশেষ প্রভাতী আয়োজন প্রচারিত হয়। যা চলে সকাল পৌনে আটটা পর্যন্ত।

এদিকে সারাদেশে এই লকডাউনের মধ্যেই চলছে সবার নববর্ষ উদযাপন। আর এই নববর্ষ হচ্ছে ১৪২৭ বঙ্গাব্দ। আজকেই প্রথম দিন। যা বাংলায় পহেলা বৈশাখ নামে অভিহিত। সারাদিন ডট নিউজের পক্ষ থেকে তাই আমরা সবাইকে জানাচ্ছি শুভ নববর্ষ।

উল্লেখ্য ১৯৬৭ সালে ছায়ানটের প্রভাতী আয়োজন শুরু হয়েছিলো ‘আলোকের এই ঝর্ণাধারায়’ গানটির মধ্যে দিয়ে। শুরুর এ গানটি দিয়ে ২০১৭ সালে ৫০ বছর পূর্তির আয়োজনও শুরু করেছিলো ছায়ানট। বিশেষ ব্যবস্থার এ আয়োজনটিও শুরু হয় এ গান দিয়ে। এর পর একে একে প্রচারিত হতে থাকে গান। যেসব গানে বর্ণিত হয়েছে মানুষের জয়গান।

সম্মেলক কণ্ঠে গীত হওয়া ‘ওই প্রভাত’, ‘নাই নাই রে ভয়’, ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’সহ আরো কয়েকটি গান। খায়রুল আনাম শাকিল কাজী নজরুল ইসলাম, লাইসা আহমেদ লিসা রবীন্দ্রনাথ ও চন্দনা মজুমদারের কণ্ঠে লালন সাঁইয়ের গান প্রচারিত হয়।

আসাদুজ্জামান নূরের কণ্ঠ কবি দিলওয়ারের কবিতা ‘ক্ষমা করবেন শ্রদ্ধেয় পিতা’ আয়োজনে ভিন্ন মাত্রা দেয়। এর পর ছায়ানট সভাপতি সানজীদা খাতুনের সমাপনী কথন প্রচারিত হয়। যেখানে তিনি বলেন, উৎসবের দিন নয় আজ। বিপন্ন মানুষকে উদ্ধার করবার দিন। নিজে নিরাপদ থাকার পাশাপাশি সবাইকে নিরাপদ রাখার সময়।

Nagad

ছায়ানটের রীতি অনুযায়ী, জাতীয় সঙ্গীত প্রচারের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ডিজিটাল প্রভাতী আয়োজন।

গতকাল সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে বলেছেন, এবারের বৈশাখ আয়োজন করবেন ঘরে বসেই। কারণ মহামারী করোনায় আমরা আতঙ্কিত। বহুদিন আগে থেকেই পহেলা বৈশাখ উদযাপন হবে না বলে সরকার জানিয়ে দেয় জনগণ দেরকে। তাইতো জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবার পূর্ণ হবে না প্রকৃতির আপন খেলায়।

এদিকে দেশে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনায় মারা গিয়েছেন ৩৯ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৮২১ জন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণ, লকডাউন মানছেন না। তবুও রাস্তায় রাস্তায় মোড়ে মোড়ে সব জায়গায় আনসার, পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী রয়েছেন।

সারাদিন/১৪এপ্রিল/টিআর