বেগম রোকেয়ার জন্ম-মৃত্যু আজ

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১:১২ অপরাহ্ণ, ০৯/১২/২০১৯

পৃথিবীর আলোর মুখ দেখেন খ্যাতিমান বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারক বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। আর এই দিনেই তিনি ইন্তিকাল করেন। তবে সাল কিন্তু ভিন্ন। আর ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯ সোমবার ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ শ্রদ্ধা ভরে তাকে স্মরণ করেন।

রোকেয়ার জন্ম ১৮৮০ সালের এই দিনে। তিনি রংপুরের পায়রাবন্দে জন্ম নিয়েছিলেন। তার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। বৈবাহিকসূত্রে নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। কিন্তু তাকে বেগম রোকেয়া নামেই ডাকা হয়।

তৎকালীন সমাজব্যবস্থায় রোকেয়া ও তার বোনদের বাইরে পড়াশোনা করতে পাঠানো হয়নি। তাদের ঘরে আরবি ও উর্দু শেখানো হয়। তবে রোকেয়ার বড় ভাই ইব্রাহীম সাবের আধুনিকমনা ছিলেন। তিনি রোকেয়া ও করিমুন্নেসাকে ঘরেই গোপনে বাংলা ও ইংরেজি শেখান।

১৮ বছর বয়সে রোকেয়ার বিয়ে হয় ভাগলপুরের ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। বিয়ের পর রোকেয়ার আধুনিক পড়ালেখা আরো পুরোদমে শুরু হয় এবং তিনি সাহিত্যাঙ্গনেও পদার্পণের সুযোগ পান। বেশ কয়েকটি স্কুল পরিচালনা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত রোকেয়া নিজেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত রাখেন।

১৯১৬ সালে তিনি মুসলিম বাঙালি নারীদের সংগঠন ‘আঞ্জুমানে খাওয়াতিনে ইসলাম’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য রচনা সুলতানাস ড্রিম, যার অনূদিত রূপ ‘সুলতানার স্বপ্ন’। এটিকে বিশ্বের নারীবাদী সাহিত্যে একটি মাইলফলক ধরা হয়। তার অন্যান্য গ্রন্থ হলো- ‘পদ্মরাগ’, ‘অবরোধবাসিনী’, ‘মতিচুর’।

প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি নারীশিক্ষার প্রয়োজনীয়তা আর লিঙ্গসমতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। হাস্যরস আর ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের সাহায্যে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অসম অবস্থান ফুটিয়ে তোলেন তিনি। এসব অবদানের জন্য ঊনবিংশ শতাব্দীর খ্যাতিমান এ বাঙালি সাহিত্যিক ও সমাজ সংস্কারককে বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত হিসেবে গণ্য করা হয়। আর বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের একই তারিখে মৃত্যুবরণ করেন।

ইতিহাসবিদরা বলেন, নারীদের মধ্যে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে মাত্র পাঁচ জন ছাত্রী নিয়ে ১৯০৯ সালে তিনি ভাগলপুরে প্রথম রোকেয়া সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু বিভিন্ন কারণবশত স্কুলটি বেশিদিন টেকেনি। পরবর্তীতে একবছর পর ১৯১১ সালে কলকাতায় পুনরায় একই নামে স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন।

ইতিহাসবিদরা জানান, নারী শিক্ষার প্রসার, নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি এবং মুসলমান সমাজের অবরোধ প্রথার অবসান হবে এমনটাই স্বপ্ন দেখতেন বেগম রোকেয়া।

জানা যায়, ১৯৩০ সালে বঙ্গীয় মুসলিম সম্মেলনে বেগম রোকেয়া বাংলা ভাষার পক্ষে জোরালো বক্তব্য রাখেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, শিক্ষা ছাড়া নারী জাতির মুক্তি সম্ভব নয়। তাই তিনি নারী শিক্ষা প্রসারে কাজ করেছেন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত। ১৯৩২ সালের ০৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

শত বছর আগে যে নারী কথা বলেছেন নারীর স্বাধীনতা-অধিকার নিয়ে, তার সেই কাঙ্ক্ষিত মুক্তির স্বাদ, সামাজিক-মানবিক অধিকার কি আজও আমরা বাঙালি নারীরা পেয়েছি? সময় হয়েছে ভেবে দেখার… বিশেষ এই দিনে বিনম্র শ্রদ্ধা বাঙালি নারীর মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বেগম রোকেয়ার প্রতি।

সারাদিন/৯ডিসেম্বর/টি