চুয়েটে সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহার নিয়ে সেমিনার

“সত্য-মিথ্যা যাচাই আগে, ইন্টারনেটে শেয়ার পরে।” এই স্লোগানকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ অনুষ্ঠিত হল “সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন সংস্কৃতি তৈরি” শীর্ষক একটি সেমিনার। নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার বিষয়ক এই বিশেষ সেমিনারটি আয়োজন করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল এর অধীনে “উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প (iDEA)।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) র সকালে শিক্ষার্থীদের নিয়ে উন্মুক্ত এই সেমিনারটি চট্টগ্রামের রাউজানের চুয়েট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের  প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ রাউজান আসনের সংসদ সদস্য ও রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ. বি. এম. ফজলে করিম চৌধুরী, এমপি , চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলাম এবং “উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প” (iDEA) এর পরিচালক (অতিরিক্ত-সচিব) সৈয়দ মজিবুল হক। সেমিনারটি সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক প্রফেসর মোহাম্মদ মশিউল হক।

প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি বলেন যে, বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারির সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি যা ১০ বছর আগে ছিল মাত্র ৫৬ লাখ। প্রতিবছর ৪ কোটি মোবাইল ফোন আমদানী হয় যার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশই স্মার্ট ফোন। বর্তমানে ফেইসবুক ব্যবহারকারির সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এখন প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ৩০০ টাকা যেখানে ১০ বছর আগে এর মূল্য ছিল ৭৮ হাজার টাকা। ইন্টারনেটের মূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্যে  প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা-কে তিনি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ১০ বছর আগে ২জি এর প্রচলন ছিল কিন্তু বর্তমানে তা ৪জি তে পরিণত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ এর বক্তব্য অনুযায়ী ২০২৪ সালের মধ্যে সরকার ৫জি রোলআউট করবে। তাই দেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এই ডিজিটাল স্পেসটাকে নিরাপদে রাখার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের। বর্তমানে ফেইক নিউজ বা গুজবের সংখ্যা বাড়ছে। একটা ভালো কাজের প্রসংশা না করে উল্টো মিথ্যা ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে যা সমাজের জন্য মঙ্গলজনক নয়।

বুঝে না বুঝে মিথ্যা সংবাদকে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অবশ্যই শেয়ার করার আগে বিষয়টি সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে বলেও জানান পলক।

এ. বি. এম. ফজলে করিম চৌধুরী, এমপি বলেন যে, অসম্ভব বলে আসলে কিছুই নেই। ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনেক কিছুই সম্ভব করা যেতে পারে।

সৈয়দ মজিবুল হক তরুনদের ইন্টারনেটে যেকোন কিছু শেয়ার করার আগে নিজেদের বিবেক-বুদ্ধি দিয়ে বিবেচনা করে এবং উক্ত তথ্যের সত্য-মিথ্যা যাচাই করে শেয়ার করার জন্য অনুরোধ করেন।

সেমিনারটিতে প্রায় ২শতাধিক শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগন উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি সোশ্যাল মিডিয়ার ইতিবাচক ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি লক্ষ্যে একটি কি-নোট উপস্থাপন করেন এবং উক্ত সেমিনার শেষে তিনি সকলকে নিয়ে “সোশ্যাল মিডিয়া প্যারেড” এর শপথ পাঠ করেন।

সারাদিন/৮ডিসেম্বর/এস