চতুর্দশ বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের বৈঠকে 

তথ্যসুরক্ষা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও সম্প্রচার আইন কনটেন্ট ব্যাংক তৈরির দাবি

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৪:২২ অপরাহ্ণ, ১৬/১১/২০১৯
এক বিশ্ব, এক নেট, এক লক্ষ্য স্লোগানে শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো চতুর্দশ বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের বৈঠক। বার্লিন সম্মেলনকে সামনে রেখে দিনব্যাপী এই আলোচনা সভায় ডেটা গভর্নেন্স, ডিজিটাল অন্তর্ভূক্তি এবং নিরাপত্তা, নিরভরযোগ্যাতা, স্থিতি এবং সহনশীলতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

চারটি সেশনে অনুষ্ঠিত সভার প্রথম অধিবেশনে আলোচনা করা হয় ইন্টারনেট প্রশাসনে তরুণদের অন্তর্ভূক্তি বিষয়ে। ধ্রুবতারা ইয়্যুথ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (ডিওয়াইডিএফ) নির্বাহী পরিচালক ও সাধারণ সম্পাদক অমিয় প্রাপন চক্রবর্তীর সঞ্চালনায় ‘বাংলাদেশ ইয়্যুথ আইজিএফ’ বিষয়ে এই সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার (অ্যাপনিক)পলিসি অ্যান্ড কমিউনিটি য়েভেলপমেন্ট বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভাইজার শ্রিনিভাস গৌদ সিন্ধি, ফ্রেডরিক নোমান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম (এফএনএফ বাংলাদেশ) প্রতিনিধি তানভীর আহসান, নভোকম লিমিটেড সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার ফারহা দিবা, ইয়্যুথ ইন্ডিং হাঙ্গার বাংলাদেশ ঢাকা বিভাগের সমন্বয়ক সানজিদা জামান এবং জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাজ্জাদ হোসাইন।

ঘণ্টাব্যাপী এই আলোচনা শেষে অংশীজনদের নিয়ে আয়োজিত এই সভার উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপর্সন হাসানুল হক ইনু’র সভাপতিত্বে প্রথম অধিবেশনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এশিয়া প্যাসিফিক নেটওয়ার্ক ইনফরমেশন সেন্টার (অ্যাপনিক) ডিরেক্টর জেনারেল পল বায়রন উইলসন, আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম, ফ্রেডরিক নোমান ফাউন্ডেশন ফর ফ্রিডম (এফএনএফ) কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. নাজমুল হোসাইন, বিআইজিএফ জেনারেল মোহাম্মাদ আব্দুল হক অনু, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অধিবেশনে সূচনা বক্তব্য দেন বিআইজিএফ পলিসি রিসার্চ ফেলো এএইচএম বজলুর রহমান। আলোচনা সভা পরিচালনা করেন মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিশেষজ্ঞ এস এম মোর্শেদ। এই অধিবেশনে বিগত সময় ৩টি শিল্পবিপ্লবে ব্যর্থ দেশগুলোর জন্য ৪র্থ শিল্পবিপ্লবের সময় বড় ‘বিপদ’ হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন ‘ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও সতর্কতা গড়ে তোলা না হলে এই সুযোগ সবচেয়ে বড় গলার কাঁটা হয়ে উঠবে।’

অপরদিকে বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপর্সন হাসানুল হক ইনু বৈঠকে তথ্যসুরক্ষা, ডিজিটাল বাণিজ্য ও সম্প্রচার আইন এবং গ্লোবাল ট্রিটি গঠন ও কনটেন্ট ব্যাংক তৈরির দাবি জানান।

ইন্টারনেট-কে সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসেবে অন্তর্ভূক্তির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশের অর্থনীতির যে উন্নয়ন ঘটছে তা তিনটি স্তম্ভের উপর এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন, গ্রামের চাষী সমাজ, পোশাক শিল্পের ৪০ লাখ নারী কর্মী, প্রবাসী কর্মী। ১৬ কোটি মানুষের দেশে মানবসম্পদ হচ্ছে প্রধান পুঁজি। বাংলাদেশকে যদি সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় এই তিন স্তম্ভ যথেষ্ট নয়। ৪ নম্বর স্তম্ভ হচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রশিক্ষত ও শিক্ষিত কর্মী। আর ইন্টারেনট ব্যবহার করার দক্ষতা যে সমাজের আছে সে সমাজ এগিয়ে যাবে। সুতরাং আমাদের চতুর্থ স্তম্ভ ইন্টারনেট। ইন্টারনেট অর্থনীতির মানচিত্র পরিবর্তন করে দিচ্ছে। মানচিত্র পরিবর্তন হলে কেউ দরিদ্র থাকবে না।

ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে ব্যবসা গড়ে উঠছে। তার নাম ই-বাণিজ্য, অনেকেই এই ব্যবসা করছে। কিন্ত এর জন্য কোন নিয়ম নাই, আইন নাই। ই-বাণিজ্যর যে প্রসার ঘটেছে, কিন্ত আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। ই-বাণিজ্য নীতি বাস্তবায়ন করতে হবে। এইটা না হলে সরকার, প্রতিষ্ঠান, গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপর্সন হাসানুল হক ইনু।

সভার দ্বিতীয় অধিবেশনে অগ্রসরমান প্রযুক্তিতে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), বিগ-ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন, মেশিন লার্নিং এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে সাইবার অপরাধ বিষয়ে আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন (ফোরআইআর) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ তামজিদ উর রহমানের সঞ্চলনায় আলোচনায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকল্প পরিচালক লেঃ কর্নেল রাকিবুল হাসান, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক কাজী হাসান রবিন, ইন্টারনেট সোসাইটি (আইসক) বাংলাদেশ ঢাকা চ্যাপ্টারের বোর্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসাইন, ইন্টারনেট ইঞ্জিনিয়ারিং টাস্কফোর্স (আইটিএফ) ফেলো শায়লা শারমিন এশিয়া প্যাসিফিক রিজিওনাল ইন্টারনেট গর্ভর্নেন্স (টেকনিক্যাল কমিউনিটি) ফেলো শাহ জাহিদুর রাহমান, আইকান ফেলো আফিফা আব্বাস, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন (ফোর আইআর) ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ফেলো আফিফা আব্বাস।

তৃতীয় অধিবেশনে আলোচনা হয় ডিজিটাল রূপান্তরে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে। একুশে টেলিভিশন সম্পাদক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে সাউথ এশিয়া আর্টিকেল ১৯ এর আঞ্চলিক পরিচালক ফারুক ফয়সালের সঞ্চালনায় এই অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এশিয়ান মিডিয়া ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন সেন্টার (এএমআইসি) বাংলাদেশ অধ্যাপক ড. গোলাম রহমান। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাস কমিউনিকেশন অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের এস এম শামীম রেজা এবং বিআইজেএফ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোজাহেদুল ইসলাম।

সভার চতুর্থ পর্বে ইন্টারনেট কি রাজনীতিতে পরিবর্তন ঘটিয়েছে বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিন, এবিনিউ২৪ প্রধান সম্পাদক সুভাস সিংহ রায়, বেটার বাংলাদেশ ফউন্ডেশন (বিবিএফ) সভাপতি অধ্যাপক মাসুদ এ খান এবং ফাইবার অ্যাট হোম লিমিটেডের প্রধান কারিগরি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির। ইন্টারনেট সোসাইটি (আইসক) ঢাকা চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. হাফিস মো: হাসান বাবু’র সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদা এম রশিদ চৌধুরী।

সভার শেষ অধিবেশনে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে ইন্টারনেট প্রশাসন বিষেয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডান্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন (ফোর আইআর) ভাইস প্রেসিডেন্ট সৈয়দ তামজিদুর রহমান। বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফোরামের চেয়ারপারসন ও তথ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাসানুল হক ইনু’র সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, আর্টিকেল ১৯ এর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ফারুক ফয়সাল ও বিসিএস সভাপতি শহিদ উল ‍মুনির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিভি, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের অধ্যাপক ডঃ আবু জাফর মোঃ শফিউল আলম ভূঁইয়া।