প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে: টিআইবি

নিজস্ব প্রতিবেদকনিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৮:০৭ অপরাহ্ণ, ০৮/১২/২০১৯

ছবি: টিআইবি

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ২০১৯ উপলক্ষে টিআইবি’র মানববন্ধন করেছে। মানববন্ধনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সকল স্তরের মানুষ যেন সোচ্চার প্রতিবাদ ও ভূমিকা পালন করতে পারে, তার উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করার আহ্বান জানানো হয।  একইসাথে, অন্তর্ভুক্তিমূলক টেকসই অভীষ্টের কার্যকর বাস্তবায়নে অভীষ্ট ১৬ এর ওপর সর্বাধিক প্রাধান্য নিশ্চিতসহ চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের বাস্তব সুফল নিশ্চিতে কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্ধ্বে থেকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না” এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে হবে।

জাতিসংঘ ঘোষিত ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে বোববার (৮ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ এ জাতীয় সংসদ ভবন সম্মুখে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ও একইসাথে দেশের ৪৫ টি অঞ্চলে স্থানীয় পর্যায়ে টিআইবির অনুপ্রেরণায় গঠিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) আয়োজিত দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে এ দাবিসমূহ তুলে ধরা হয়।

ঢাকায় আয়োজিত মানববন্ধনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামানসহ টিআইবি সদস্য ও কর্মীবৃন্দ, টিআইবির অনুপ্রেরণায় ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত ইয়েস গ্রæপের সদস্য ও সমমনা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেন সনাক সদস্যবৃন্দ, স্বচ্ছতার জন্য নাগরিক (স্বজন), ইয়ুথ এনগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্ট (ইয়েস), ইয়েস ফ্রেন্ডস গ্রুপের  সদস্যবৃন্দসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ।

মানববন্ধনে ড. ইফতেখারুজ্জামান এবারের দুর্নীতিবিরোধী দিবস উদ্যাপনের প্রেক্ষাপটকে ব্যতিক্রমী উল্লেখ করে বলেন, ‘‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চলমান অভিযান দেশবাসীর মনে আশার সঞ্চার করেছে।” এ অভিযান দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, ‘‘তবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এ লড়াইয়ের গুরুদায়িত্ব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একার নয়, এজন্য দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানসমূহকে কোনো প্রকার ভয় বা করুণার ঊর্দ্ধে থেকে সকল প্রকার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে অভিযুক্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতপূর্বক দুর্নীতি প্রতিরোধের দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন’ ও ‘ফরেন ডোনেশনস (ভলান্টারি অ্যাক্টিভিটিস) রেগুলেশন অ্যাক্ট’ এর নিবর্তনমূলক ধারাসমূহ এবং ‘সরকারি চাকরি আইন ২০১৮’ এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করা; ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি ও জালিয়াতি এবং আর্থিক কেলেঙ্কারির সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গকে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করে এ খাতে প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাবনা প্রণয়নের জন্য একটি স্বাধীন ব্যাংকিং কমিশন গঠন করা; বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থায় সমন্বিত ও পরিপূরক কৌশল গ্রহণ; এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ও সদস্যদের নিয়োগে যোগ্যতার মাপকাঠি নির্ধারণ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ নিশ্চিত করা; তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর কার্যকর প্রয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ, বিশেষ করে তথ্যের আবেদনকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ (সুরক্ষা প্রদান) আইন, ২০১১’ বাস্তবায়নের জন্য একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি ও এ আইন সম্পর্কে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিভিন্ন কর্মসূচি নিতে হবে; দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে হবে।

সারাদিন/৮ডিসেম্বর/এআর