আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের পর্দা উঠল

বিনোদন ডেস্কবিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:১৮ অপরাহ্ণ, ০৮/১২/২০১৯

বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের আয়োজনে শাহবাগের কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে পর্দা উঠল ১৫তম আন্তর্জাতিক স্বল্পদৈর্ঘ্য ও মুক্ত চলচ্চিত্র উৎসবের।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংসদ ড. এ কে আবদুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি চলচ্চিত্র নির্মাতা ঋত্বিক কুমার ঘটকের সুযোগ্য শিষ্য-প্রখ্যাত ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা কুমার সাহানী ও ভারতের প্রখ্যাত স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্য রচয়িতা কমল স্বরূপ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উৎসব কমিটির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিচালক এন. রাশেদ চৌধুরী। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের সভাপতি জাহিদুর রহিম অঞ্জন। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের সুচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মূল ভেন্যু কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তনে ৫টি ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে ৩টি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র দেখানো হয়।

অন্যান্যবারের মতো এবারো পনের তম উৎসবে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে-আজীবন অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ একজন বাংলাদেশি ব্যাক্তিত্বকে উৎসবের পক্ষ থেকে-হীরালাল সেন আজীবন সন্মাননা স্মারক প্রদান করা হবে। বাংলাদেশের খ্যাতনামা চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সংগঠক মোরশেদুল ইসলামকে-বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবারের ‘হীরালাল সেন আজীবন সন্মাননা’ পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে।

প্রতিটি পুরস্কারের সাথে বিজয়ীদের দেয়া হবে-প্রখ্যাত বাংলাদেশী শিল্পী কাইউম চৌধুরীর ডিজাইনকৃত একটি সূদৃশ্য উৎসব স্মারক ও সার্টিফিকেট।

৭ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এ উৎসবের মূল কেন্দ্র হিসেবে থাকছে কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান মিলনায়তন, জাতীয় জাদুঘরের বেগম সুফিয়া কামাল মিলনায়তন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর-সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তন, জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তন এবং একাডেমির সেমিনার হলসমুহ।

এবারের ১৫ তম উৎসব উৎসর্গ করা হয়েছে সম্প্রতি প্রয়াত স্বাধীন চলচ্চিত্র ধারার অন্যতম গুণী নির্মাতা ও চলচ্চিত্র সম্পাদক সাইদুল আনাম টুটুল, সূর্য দীঘল বাড়ি খ্যাত অসংখ্য চলচ্চিত্রের-চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন ও চলচ্চিত্র সংসদ আন্দোলনের পূরোধা ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ খসরু- এঁর স্মৃতির প্রতি।

বিশ্বে ও ৪৫টি দেশের সাম্প্রতিকালে নির্মিত অন্তত শতাধিক স্বল্প ও মুক্ত দৈর্ঘ্যরে ছবি বিভিন্ন বিভাগে দেখানো হবে। চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী ছাড়াও-উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ-আলমগীর কবির স্মারক বক্তৃতা, তিনটি প্রশিক্ষন কর্মশালা ও একটি মাস্টার ক্লাস।

উৎসবের দু’টি কর্মশালার একটি হবে, স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণ সম্ভাবনা ও অন্যটি চিত্রনাট্য রচনার সাম্প্রতিক ট্রেন্ড ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে চলচ্চিত্রের বিষয়ক। প্রথমটির প্রশিক্ষক-ভারতের এফটিআইআই এর শিক্ষক, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা-অনির্বাণ দত্ত ও কানাডার তরণ চলচ্চিত্র পরিচালক জেসি আল্ক।

দ্বিতীয় কর্মশালাটি নেবেন খ্যাতনামা ভ্যারাইটি সিনেমা পত্রিকার চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখক, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সমুহের এশিয়ান সিনেমার নির্বাচক ও চিত্রনাট্য রচয়িতা, যুক্তরাজ্যের-নামান রামাচন্দ্রন। এসকল ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণে আগ্রহী শিক্ষার্থী-ছাত্রছাত্রীদের জন্য তাদের স্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে-নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ফি’র অর্ধেক মূল্যে রেজিস্ট্রেশনের সুবিধা রয়েছে।

এছাড়াও ‘অরালিটি এন্ড মুভমেন্ট’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক লেকচার পাঠ করবেন-তুলনামূলক সাহিত্যের শিক্ষক ও ভারতীয় বিশিষ্ট অনুবাদক বিদ্বূষী ডঃ রিমলি ভট্টাচার্য্য।

এবারের উৎসবে সদ্যপ্রয়াত চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মাঝে ইরানের-আব্বাস কিয়ারোস্তামী, আমেরিকার-মায়া ডেরেন, জোনাস মেকাস, ফ্রান্সের-এগনেস ভার্দা, গ্রীসের থিও এঞ্জেলোপোলাস, ভারতের মৃণাল সেন সহ বাংলাদেশের সাইদুল আনাম টুটুল ও চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন এর স্মৃতি স্মরণে-বিশেষ ট্রিবিউট শীর্ষক-চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।

বাংলাদেশ শর্ট ফিল্ম ফোরামের উদ্যোগে ৩৩ বছর যাবৎ নিয়মিত দ্বি-বার্ষিক ভিত্তিতে এটি আয়োজিত হয়ে আসছে স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্রের এই উৎসব। পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠানের একটি তালিকা ইতিমধ্যেই উৎসবের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

সারাদিন/৮ডিসেম্বর/টিআর