ডাকসুর ভিপি নুরের পদত্যাগ দাবি জিএস রাব্বানীর

নিজস্ব প্রতিনিধিনিজস্ব প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, ০৮/১২/২০১৯

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুরের ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডকে দুর্নীতির বড় প্রমাণ বলে উল্লেখ করেছেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) গোলাম রাব্বানী। এর সাথে নুরের পদত্যাগ দাবি করেছেন ।

রোববার (৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসুর ছাত্রলীগ প্যানেলের পক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে ছাত্রলীগ প্যানেলের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা নুরের বিরদ্ধে উপাচার্যের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করবেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

এ সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাব্বানী বলেন, ‘আমি ডাকসুর জিএস পদ ব্যবহার করে কোনো খারাপ কাজ করিনি। যদি জিএস পদ ব্যবহার করে অনৈতিক কাজ করার কোনো অভিযোগ আমার বিরুদ্ধে ওঠে, পদত্যাগ করবো। তবে নুরের বিরুদ্ধে ভিপি পদ ব্যবহার করার অভিযোগই শুধু নয়, দালিলিক প্রমাণও রয়েছে। অডিও-ভিডিও রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান ডাকসুর সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব। তিনি বলেন, নিজের সব অপকর্ম, ব্যর্থতা, অক্ষমতা স্বীকার করে নুরকে পদত্যাগ করতে হবে। ভিপি পদটিকে অপবিত্র, অপব্যবহারের দায় স্বীকার করে নুর পদত্যাগ না করলে যথাযথ নিয়মে তাকে ডাকসু থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নুরের যাবতীয় কর্মকাণ্ড তদন্তের ব্যবস্থা করা হোক।

এ সময় ছাত্রলীগ প্যানেলের সদস্যরা নুরের ‘জিরো থেকে হিরো’ হওয়ার বিষয়টি অনুসন্ধানের দাবি জানান। নুরের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রি অফিসে একাধিক টেন্ডারবাজি, তদবির, নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও তোলেন তারা।

গোলাম রাব্বানীর নুরের পদত্যাগ দাবির বিষয়ে সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ডাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বলেন, ডাকসুর জিএসের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের কারণে তিনি সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রি অফিসে টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছে তারা। ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের চেয়ে আমার ক্ষমতা কি বেশি? যেখানে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে গেলেই আমাকে বাধা দেওয়া হচ্ছে, সেখানে এ ধরনের অভিযোগ পুরোটাই মিথ্যা।

প্রসঙ্গত, গত ৩ ডিসেম্বর একটি বেসরকারি টেলিভিশনে ভিপি নুরের একটি খণ্ডিত ফোনালাপ সম্পর্কিত সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি সংগঠন নুরের পদত্যাগের দাবিতে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে এবং তার ডাকসু কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

তবে নুরের দাবি, তার ফোনালাপটি একজন সাধারণ মানুষের সঙ্গে হয়েছে। এটিকে খণ্ড খণ্ড করে গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। পুরো ফোনালাপটি প্রকাশের দাবি জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিন্দুমাত্র প্রমাণ দিতে পারলে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন বলেও তিনি জানান।

সারাদিন/৮ডিসেম্বর/আরটি