স্কিলস এবং ফিউচার অব ওয়ার্ক বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, ০৬/১২/২০১৯

ইউনিসেফ, একশনএইড বাংলাদেশ এবং এটুআই এর যৌথ আয়োজনে  বৃহস্পতিবার( ০৫ ডিসেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউন হলে ‘স্কিলস এবং ফিউচার অব ওয়ার্ক’ বিষয়ক জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের  মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, “তরুণ প্রজন্মের সফলতা আনতে হলে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।” এক্ষেত্রে মোবাইল ব্যবহারে দক্ষতা অর্জনের উপর জোর দেন তিনি।

তিনি বলেন, “ডিজিটাল বাংলাদেশের দার্শনিক চিন্তাধারা এবং সে অনুযায়ী কর্মসম্পাদনে সব ধরনের মানুষের অন্তর্ভুক্তি থাকায় ডিজিটাল বাংলাদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের রূপ দেখতে পেরেছে। এ প্রেক্ষাপটে মোবাইলে তথ্য সেবা দেয়ার মাধ্যমেই আজকের এই ডিজিটাল বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।” “ডিজিটাল প্রযুক্তি বদলে দিচ্ছে দিন, তারই বদৌলতে আজকের টেলিমেডিসিন” ঠিক এমন করেই দেশের প্রতিটি খাতে ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া লেগেছে বলে তিনি জানান। তিনি আরো বলেন, “যাদের জন্য করছি আর যাদেরকে নিয়ে করছি একসাথে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে পারলেই আমাদের সফলতা নিশ্চিত। এক্ষেত্রে সকল ইন্ড্রাস্ট্রিকে গবেষণায় আরো মনোযোগী হতে হবে।”

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, এমপি, বলেন, “কোন পেশাকেই ছোট করে দেখা যাবে না। সমাজের সকল পেশাই সম্মানজনক। সকল খাতে সময়োপযোগী শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের সকল ধরনের সহযোগীতার পাশাপাশি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।” প্রতিনিয়ত শ্রম বাজারের পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদানে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক, এমপি বলেন, “আইসিটি বিভাগের বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ১ লক্ষ উদ্যোক্তা তৈরি করা সম্ভব।” শিক্ষায় ই-লার্নিং পদ্ধতির উপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ঐতিহ্যগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে বেরিয়ে এসে স্কুল পরবর্তী সময়ে ই-লার্নিং প্রোগ্রাম চালু করা উচিত। এক্ষেত্রে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব কার্যকরি ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার কারিকুলামে বিষয়ভিত্তিক ও সময়োপযোগী কারিকুলাম আপডেট করার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ইন্ডাস্ট্রি এবং স্কিলস ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির মধ্যে দূরত্ব কমাতে পারলে বেকার যুবকদের ডিসেন্ট অ্যাপ্লয়মেন্ট সম্ভব। এক্ষেত্রে একটা বিশাল সংখ্যক যুব সমাজকে ইন্ডাস্ট্রি ভিত্তিক ট্রেনিং এবং শিক্ষানবিশির আওতায় আনতে হবে। প্রবাসী শ্রমিকদের আরো দক্ষ করে বিদেশের মাটিতে পাঠাতে পারলে তারা আরো বেশি পারিশ্রমিক পাবে এবং আমাদের রেমিটেন্স বাড়বে।

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) জনাব মোঃ ফারুক হোসেন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অভিবাসী কল্যাণ অনুবিভাগ) ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক, এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ সফিকুল ইসলাম, ইউনিসেফ বাংলাদেশের জেন্ডার স্পেশালিস্ট জনাব নওরিন খান, একশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর জনাব ফারাহ কবির, আইএলও-এর চীফ টেকনিক্যাল অফিসার (স্কিলস ২১ প্রজেক্ট) জনাব কিশোর কুমার সিং, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এমসিসিআই) সভাপতি জনাব ব্যারিস্টার নিহাদ কবির, ইকরা বাংলাদেশের (কওমি শিক্ষা বোর্ড) চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ। এছাড়া ইউনিসেফ, একশনএইড বাংলাদেশ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ-এর আওতাধীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, বিভিন্ন সরকারি, দাতা সংস্থা ও এনজিও কর্মকর্তাগণ এবং গণমাধ্যম কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।