নর্থব্রুক হল, কীভাবে যাবেন

সারাদিন ডেস্কসারাদিন ডেস্ক
প্রকাশিত: ৬:০৯ অপরাহ্ণ, ০৬/১২/২০১৯

১৮৭৪ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল জর্জ ব্যরিং নর্থব্রুকের ঢাকা সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে মোগল স্থাপত্যরীতি ও ইউরোপীয় কারুকাজের অপূর্ব সংমিশ্রণে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ফরাশগঞ্জ এলাকায় নর্থব্রুক হল নির্মাণ করা হয়। শুরুতে টাউন হল হিসাবে নর্থব্রুক হল নির্মাণ করা হলেও পরবর্তীতে একে গণগ্রন্থাগারের রূপ দিয়ে সাথে জনসন হল নামে একটি ক্লাব ঘর বানানো হয়।

ভবনের রং লাল হওয়ার কারণে নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয় লোকজনের কাছে নর্থব্রুক হল লালকুঠি নামে পরিচিতি লাভ করে। ১৯২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে নর্থব্রুক হলে সংবর্ধনা দেয়।

এক বিঘা জমির ওপর তৈরি নর্থব্রুক হল ভবনের দুই পাশে দুইটি করে অষ্টভুজাকৃতির কারুকার্যখচিত ৪টি মিনার রয়েছে। মূল ভবনের উত্তর দিকে অবস্থিত সকল প্রবেশ দরজাগুলো অশ্বখুরাকৃতি ও অর্ধ-বৃত্তাকার। মুসলিম ঐতিহ্যের স্মারক নর্থব্রুক হলের দক্ষিণ ও উত্তর দিকের নকশায় স্বতন্ত্রতা ও বৈচিত্রতা লক্ষ করা যায়। ফলে প্রথমবার দুই দিক থেকে দেখলে এই ভবনকে দুইটি পৃথক ভবন বলে মনে হয়।

বর্তমানে বুড়িগঙ্গা তীরের নর্থব্রুক হল প্রাঙ্গণের ভেতরে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব, ডায়াবেটিক সমিতি এবং সিটি করপোরেশনের ৪৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় রয়েছে। আর ভবনের পাশের রাস্তাটি এখনো নর্থব্রুক হল রোড নামে সুপরিচিত। সংরক্ষিত প্রাচীন সৌন্দর্যমণ্ডিত পুরাকীর্তি নর্থব্রুক হলের অতীতের গাম্ভীর্য্য না থাকলেও এর চূড়া ও দেয়ালের কারুকাজ আগত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

কীভাবে যাবেন
ঢাকা শহরের যেকোন স্থান হতে গুলিস্তান বা সদরঘাট এসে সরাসরি রিক্সা ভাড়া নিয়ে নর্থব্রুক হল বা লালকুঠি আসতে পারবেন।

কোথায় থাকবেন
রাজধানী ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই কম বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে। এখানে ৫ তারকা মানের হোটেল থেকে শুরু করে সাধারণ মানের হোটেলও পাবেন। ৫ তারকা হোটের মধ্যে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ, হোটেল লা মেরিডিয়েন, র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। এছাড়া বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ফকিরাপুল, পল্টন, গুলিস্তান এবং পুরান ঢাকাতে কম খরচে থাকার অসংখ্য আবাসিক হোটেল রয়েছে।

কোথায় খাবেন
পুরান ঢাকার বিখ্যাত কাজি আলাউদ্দিন রোডের হাজির বিরিয়ানি, হোটেল রয়েলের পেস্তা বাদামের শরবত, বেচারাম দেউড়ি রোডে নান্নার মোরগ পোলাও, লালবাগ শাহী মসজিদের সাথে মোহন মিয়ার জুস এবং হানিফের তেহরি সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের স্বাদ চেখে দেখতে পারেন।

সারাদিন/৬ডিসেম্বর/টিআর